নতুন বছর মানেই শুভেচ্ছার বন্যা। তবে এ বার সেই শুভেচ্ছা আর শুধু মোবাইলের ই-কার্ডে নয়—রঙে, রেখায়, আবেগে। দক্ষিণ কলকাতার ক্যারাভান উইন্টার কার্নিভ্যালে বিশেষভাবে সক্ষম শিশু-কিশোরদের হাতের ছোঁয়ায় রূপ নিল ২০২৬-এর বার্তা। হলুদ ট্যাক্সির গায়ে, শহরের দেওয়ালে আঁকা হল ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’—মানবিক শিল্পের এক অনন্য উদাহরণ।
ই-কার্ডের যুগে হাতে আঁকা শুভেচ্ছা
ডিজিটাল যুগে কাগজের গ্রিটিংস কার্ড প্রায় হারিয়ে গেছে। সেই অভাব পূরণ করতেই বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা ও আর্ট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা মিলে শুরু করেন অভিনব উদ্যোগ। শহরের দেওয়াল ও ট্যাক্সির গায়ে রঙে-রেখায় ফুটে ওঠে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এই সৃজনশীল ভাবনার মঞ্চ হয়ে ওঠে ক্যারাভান উইন্টার কার্নিভ্যাল।
শান্তির বার্তা, রঙিন কল্পনা
বেলুন উড়ছে আকাশে, চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিশুদের প্রিয় কার্টুন চরিত্র। কেউ লিখছে—“যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই”, কেউ আবার আঁকছে রঙিন ভবিষ্যতের ছবি। ২০২৬-কে ঘিরে এমনই নানা স্বপ্ন আর শুভকামনা ক্যানভাসে তুলে ধরেছে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা।
ওরাই শিল্পী, ওরাই মুখ
অন্তরা, অঙ্কন, রত্না, শ্রমণা—এই নামগুলিই এখন ক্যারাভান কার্নিভালের পরিচয়। ওদের হাতেই রঙিন হয়ে উঠছে হলুদ ট্যাক্সি, ওদের আঁকাতেই প্রাণ পাচ্ছে মেলার দেওয়াল। পেশাদার শিল্পী নয়, এই শিশুরাই এ বছরের কার্নিভালের আসল মুখ।
ব্যতিক্রমী কার্নিভালের দৃষ্টান্ত
সাধারণত বড় বড় কার্নিভাল সাজে নামী শিল্পীদের হাতে। কিন্তু ক্যারাভান উইন্টার কার্নিভ্যাল সেই ধারা ভেঙে দিল। বিশেষভাবে সক্ষম ছোট শিল্পীরাই এখানে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে। শুধু আঁকার সুযোগই নয়, মিলেছে সম্মান ও পারিশ্রমিকও—যা এই উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করেছে।
‘আসল সেলিব্রিটি ওরাই’
এই কর্মযজ্ঞে অংশ নেন বিধায়ক ও মেয়র পরিষদের সদস্য দেবাশিস কুমারও। শিশুদের সঙ্গে রং-তুলি হাতে নিয়ে আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই অনুষ্ঠানের আসল সেলিব্রিটি ওরাই”—যা উপস্থিত সকলের মন ছুঁয়ে যায়।
নিউ ইয়ার গ্রিটিংস যখন মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ, তখন দক্ষিণ কলকাতায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরাই রং-তুলি হাতে এঁকে দিল নতুন বছরের শুভেচ্ছা। ক্যারাভান উইন্টার কার্নিভ্যালে ট্যাক্সি, দেওয়াল আর মেলার প্রতিটি কোণ সাজল ওদের শিল্পীসত্তায়।













