বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে Primary Teacher Job Cancellation Case–এর শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের ৩২,০০০ প্রাইমারি শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের বেঞ্চ জানায়, নয় বছর পর চাকরি কেড়ে নিলে হাজার হাজার পরিবার আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়বে। ২০১৪-র TET এবং ২০১৭–২০১৯ সালের মধ্যে হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন্দ্র করে এই মামলার উৎপত্তি।

হাই কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত: চাকরি নিরাপদ ৩২,০০০ শিক্ষকের
ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু প্রক্রিয়াগত ভুল থাকলেও তা কোনও বড় ধরনের দুর্নীতি বা প্রতারণা নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ—এত বছরের চাকরি, পরিবার নির্ভরতা ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চাকরি বাতিল করা ন্যায়সঙ্গত নয়।এই রায়ের ফলে ২০১৪-র TET উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পাওয়া ৩২,০০০ শিক্ষক বড় আইনি সুরক্ষা পেলেন।
পটভূমি: কীভাবে শুরু হয়েছিল বিতর্ক?
২০১৪ সালে TET হয় এবং তার ভিত্তিতে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ৩২,০০০ শিক্ষক নিয়োগ পান।২০২২ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, রিজার্ভেশন নীতি লঙ্ঘন ও সিলেকশন কমিটির অনুপস্থিতি নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা হয়।২০২৩ সালে সিঙ্গল বেঞ্চ সমগ্র নিয়োগ বাতিল করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই রাজ্য সরকার এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ডিভিশন বেঞ্চে যায়।

রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া: ‘ন্যায়ের জয়’
রায় প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এটি ন্যায়ের জয় এবং হাজারো পরিবার আজ নতুন আশা পেল।শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, ডিভিশন বেঞ্চের রায় প্রমাণ করেছে—নিয়োগে কোনও দুর্নীতি হয়নি, কেবল কিছু প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল, যা পরে সংশোধন করা হয়েছে। তিনি পর্ষদকেও ধন্যবাদ জানান।
অভিযোগ বনাম প্রতিরক্ষা: আদালতে কী বলেছে দুই পক্ষ?
আবেদনকারীরা দাবি করেছিলেন—২০১৬-র নিয়োগ বিধি মানা হয়নি, রিজার্ভেশন নীতি ভঙ্গ হয়েছে, কাট-অফ স্পষ্ট ছিল না এবং তৃতীয় পক্ষের এজেন্সি প্যানেল তৈরি করেছিল।রাজ্য সরকার জানায়—দুর্নীতি বা বেআইনি কিছু হয়নি, শুধুমাত্র কিছু প্রক্রিয়াগত অসঙ্গতি ছিল, যা চাকরি বাতিলের মতো বড় সিদ্ধান্তের যোগ্য নয়।

রায়ের প্রভাব: কী বদলাবে ভবিষ্যতে?
আইনজীবীদের মতে, এই রায় প্রাথমিক শিক্ষার কাঠামোকে স্থিরতা দেবে। শিক্ষক সংগঠনগুলির মত—এটি ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করবে।এখন রাজ্য সরকার প্রশাসনিক স্তরে যে কমিগুলি চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলি সংশোধনের দিকে আরও কঠোরভাবে নজর দেবে।

কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার সিঙ্গল বেঞ্চের বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে ৩২,000 প্রাইমারি শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখল। আদালত জানায়, নয় বছর পর চাকরি কেটে দিলে তা হাজারো পরিবারের জীবনে চরম প্রভাব ফেলতে পারত। ফলে ২০১৪-র টেট–ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বড় স্বস্তি পেলেন।











