২০০৯ সালে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ় চলে যাওয়ার পর থেকে ইউরোপের সঙ্গে কলকাতার সরাসরি আকাশপথ কার্যত বন্ধ। ১৭ বছর কেটে গেলেও আজও লন্ডন বা ইউরোপ যেতে হলে ঘুরপথই ভরসা। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে নতুন করে উদ্যোগী হল কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপ যেতে আজও ঘুরপথেই ভরসা কলকাতার
দিল্লি, মুম্বইয়ের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদ—এই শহরগুলি থেকে ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ থাকলেও কলকাতা সেই তালিকার বাইরে। শহরবাসীকে ইউরোপ যেতে হলে আজও দিল্লি-মুম্বই কিংবা দুবাই, দোহা, আবুধাবি, সিঙ্গাপুর হয়ে যেতে হয়।২০০৯ সালের মার্চে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ় কলকাতা ছাড়ার পর আর কোনও ইউরোপীয় এয়ারলাইন্স সরাসরি পরিষেবা চালু করেনি।
যাত্রী সংখ্যাই বড় যুক্তি
হিসেব বলছে, ২০২৫ সালে কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন প্রায় ২ কোটি ১৮ লক্ষ যাত্রী। এর মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ আন্তর্জাতিক যাত্রী, অর্থাৎ মাসে গড়ে আড়াই লক্ষ।
নতুন ডিরেক্টর বিক্রম সিং জানাচ্ছেন, ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলির সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে—
প্রতিদিন প্রায় ৯০০ জন যাত্রী কলকাতা থেকে ইউরোপ যাচ্ছেন।
তাঁর প্রশ্ন, “যাত্রী যদি থাকেন, তবে ডাইরেক্ট ফ্লাইট চলবে না কেন?”
এয়ার ইন্ডিয়া-সহ ইউরোপীয় এয়ারলাইন্সকে প্রস্তাব
এই তথ্যের ভিত্তিতেই এয়ার ইন্ডিয়াকে চিঠি পাঠাচ্ছেন বিক্রম সিং। প্রস্তাবে কলকাতা–লন্ডন বা অন্তত গ্যাটউইক পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালুর অনুরোধ জানানো হয়েছে।শুধু এয়ার ইন্ডিয়াই নয়, একই অনুরোধ পাঠানো হচ্ছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ় ও লুফৎহানসা-র মতো ইউরোপীয় এয়ারলাইন্সগুলিকেও।
রাজনৈতিক দরবার বহুবার, ফল মেলেনি
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ় চলে যাওয়ার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন একাধিকবার চেষ্টা হয়েছিল।২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর লন্ডনে গিয়ে সরাসরি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ়ের কাছে আবেদন করেন। নবান্নে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রীকে সামনে পেয়েও এই দাবি তোলেন।কিন্তু বাস্তবে কোনও উদ্যোগই সফল হয়নি।
টার্মিনাল সম্প্রসারণে নতুন আশার আলো
এই মুহূর্তে উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ কলকাতা বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন।
আন্তর্জাতিক টার্মিনালের অংশ সম্প্রসারণ শেষের পথে
মার্চ থেকেই নতুন অংশ চালু হবে
বাৎসরিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ কোটি ৬০ লক্ষ থেকে আরও ২০ লক্ষ বাড়ছে
বিক্রম সিংয়ের দাবি, এই পরিকাঠামোগত শক্তি এবার এয়ারলাইন্সগুলির সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার বহর বাড়ানোই বড় ভরসা
এয়ার ইন্ডিয়া বর্তমানে বড় আকারে বিমান কিনছে। হায়দরাবাদে এয়ার শো-তে সম্প্রতি ৩০টি নতুন বিমানের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন বিমান মানেই নতুন রুট। কলকাতা–লন্ডন সেই সম্ভাব্য রুটগুলির অন্যতম হতে পারে।
ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির সায়
দিশারি ট্যুরিস্ট হাবের কর্তা অমিত জানাও বলছেন,
“কাতার, এমিরেটস, ইতিহাদ—এই ফ্লাইটগুলো নিয়মিত ফুল যাচ্ছে। এর ৪০–৫০ শতাংশ যাত্রীই ইউরোপগামী।”
ট্রাভেল এজেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সর্বভারতীয় কর্তা অনিল পাঞ্জাবির কথায়,
“ডাইরেক্ট ফ্লাইট হলে খরচ কমবে, সময় বাঁচবে। চাহিদা প্রতিদিনই বাড়ছে।”
কলকাতা থেকে ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর দাবিতে এয়ার ইন্ডিয়া ও একাধিক ইউরোপীয় এয়ারলাইন্সকে চিঠি পাঠাচ্ছেন কলকাতা বিমানবন্দরের নতুন ডিরেক্টর বিক্রম সিং। যাত্রী চাহিদা, টার্মিনালের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও এয়ার ইন্ডিয়ার বহর সম্প্রসারণ—এই তিন যুক্তিকে সামনে রেখেই কলকাতা–লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট ফেরানোর উদ্যোগ।









