কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইনের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এলাকা রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবের (আরসিটিসি) নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটে সফলভাবে বেরিয়ে এল টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’। এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরোনোর পর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করেছে যন্ত্রটি।

আরসিটিসি পেরোনো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
খিদিরপুর থেকে এসপ্ল্যানেড অভিমুখে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার পথে আরসিটিসি ছিল অন্যতম সংবেদনশীল অংশ। প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ এই এলাকায় রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন হেরিটেজ স্ট্যান্ড, যা ১৯০১–০২ সালে নির্মিত। ঐতিহ্য সংরক্ষণের দিকটি মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালাতে হয়েছে টিবিএম ‘দুর্গা’কে।
লাইভ সেন্সরে নজরদারি
আরভিএনএল সূত্রে জানা গিয়েছে, সুড়ঙ্গ কাটার সময় মাটির সামান্যতম বসে যাওয়া নজরে রাখতে হেরিটেজ স্ট্যান্ডগুলিতে বসানো হয়েছিল ‘লাইভ মনিটরিং সেন্সর’। টানা নজরদারির মধ্যেই নির্বিঘ্নে আরসিটিসি পেরিয়েছে ১০০ মিটার লম্বা ও প্রায় ৬০০ টন ওজনের এই টিবিএম।

ভিক্টোরিয়ার পথে ‘দুর্গা’
দু’মাসে রেসকোর্সের নীচের পুরো অংশ অতিক্রম করার পর আপাতত ভিক্টোরিয়া স্টেশনের দিকে এগোচ্ছে ‘দুর্গা’। আরভিএনএল জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন মাসে ভিক্টোরিয়া পৌঁছনোর কথা এই যন্ত্রের।
সহযোগী টিবিএম ‘দিব্যা’র অগ্রগতি
জোড়া সুড়ঙ্গের অন্যটি খুঁড়ছে টিবিএম ‘দিব্যা’। সেটি বর্তমানে টালি নালা পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং ফেব্রুয়ারিতে আরসিটিসি এলাকায় ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘দিব্যা’র ভিক্টোরিয়া পৌঁছনোর লক্ষ্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বর।

পুরো টানেল প্রকল্পের সময়সীমা
খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত টানেল তৈরির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। খিদিরপুর ও পার্ক স্ট্রিটের মধ্যবর্তী ১.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ সম্পূর্ণ হলে টিবিএম–এর কাজ শেষ হবে। পার্ক স্ট্রিট থেকে এসপ্ল্যানেড অংশে টিবিএম ব্যবহার করা হবে না।

জোকা–বিবাদী বাগ (পার্পল লাইন) মেট্রো প্রকল্পে বড় সাফল্য। টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’ নিরাপদে রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবের নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটে এগিয়ে গিয়েছে। আরভিএনএল সূত্রে খবর, সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের জুনে ভিক্টোরিয়া স্টেশনে পৌঁছবে এই টিবিএম।











