কয়েকশো বছর পিছিয়ে গেল শহর! কলকাতার রাজপথে রঙিন নস্টালজিয়া—দাপিয়ে বেরোল ভিন্টেজ কার

কয়েকশো বছর পিছিয়ে গেল শহর! কলকাতার রাজপথে রঙিন নস্টালজিয়া—দাপিয়ে বেরোল ভিন্টেজ কার

আধুনিক গাড়ির ভিড়ে শনিবার যেন কয়েকশো বছর পিছিয়ে গেল কলকাতা। শহরের রাজপথে সারি সারি ভিন্টেজ কার—কখনও রাজকীয়, কখনও একেবারে সাধারণ অথচ ঐতিহাসিক। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (AAEI)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ৭ম ভিন্টেজ কার র‍্যালি কলকাতার অটোমোবাইল ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলল।

কঠোর ফিটনেস পরীক্ষার পরেই র‍্যালির ছাড়পত্র

র‍্যালির আগে শহরের অটোমোবাইল স্টেশনে প্রতিটি গাড়ির জন্য চালানো হয় কঠোর যানবাহন ফিটনেস পরীক্ষা। এএইআই-এর সাধারণ সম্পাদক প্রবীর রায় জানান, নিরাপত্তা ও মান বজায় রাখতেই এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।

১০০ গাড়ির মধ্যে নির্বাচিত ৮০

মোট ১০০টি ভিন্টেজ গাড়ি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার মধ্যে ফিটনেস সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে ২০টি গাড়িকে বাতিল করা হয়। বাকি ৮০টি গাড়ি সমস্ত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ায় টি-এস-টি (TST) ফরম্যাটের র‍্যালিতে অংশগ্রহণের অনুমতি পায়।

২০ কিলোমিটারের ঐতিহাসিক যাত্রাপথ

নির্বাচিত গাড়িগুলি সফলভাবে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে র‍্যালি সম্পন্ন করে। শুধুমাত্র উৎকৃষ্ট ফিটনেস ও রক্ষণাবেক্ষণযুক্ত গাড়িকেই এই যাত্রার জন্য বেছে নেওয়া হয় বলে জানান আয়োজকরা।

২০০ টাকার গাড়ি থেকে ঐতিহাসিক রত্ন

র‍্যালির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল গাড়িগুলির বৈচিত্র্য। কোথাও মাত্র ২০০ টাকা বা ৩,০০০ টাকায় কেনা পুরনো গাড়ি আজও সচল অবস্থায় রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পাশাপাশি ছিল ইতিহাসের সাক্ষী গাড়িগুলি—নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ব্যবহৃত গাড়ি, শ্যাম বেনেগালের কাছে থাকা নেতাজির গাড়ি এবং দালাই লামার গাড়িও।

দর্শকদের চোখে নস্টালজিয়ার ঝলক

এই ভিন্টেজ গাড়িগুলি কলকাতার রাস্তায় নামতেই ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি হয় শহরের এক বিরল দৃশ্য—যেখানে ইতিহাস আর বর্তমান একসঙ্গে চলেছে।

কলকাতার রাস্তায় যেন ফিরে এল অতীতের জৌলুস। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত ৭ম ভিন্টেজ কার র‍্যালিতে শহরের ঐতিহ্যবাহী গাড়িগুলি নজর কেড়েছে দর্শকদের। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও যান্ত্রিক নান্দনিকতার অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করল এই র‍্যালি।

Leave a comment