লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজ্যজুড়ে যেখানে নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন উপভোক্তারা, সেখানে ময়না বিধানসভার একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে মাসের পর মাস ভাতা বন্ধ—এই অভিযোগ ঘিরেই এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। মামলার শুনানি শেষে রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করল আদালত।

ছ’মাস ধরে বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ক্ষোভ উপভোক্তাদের
অভিযোগ, ময়না বিধানসভার অন্তর্গত বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতে গত ছ’মাস ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া বন্ধ। এর জেরে সাত হাজারেরও বেশি মহিলা উপভোক্তা রাজ্যের জনপ্রিয় এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জনস্বার্থ মামলা দায়ের পঞ্চায়েত সদস্যের
এই পরিস্থিতিতে বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সুনিতা মণ্ডল সাউ কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাবি করা হয়, একই সময়ে রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় উপভোক্তারা নিয়মিত ভাতা পেলেও নির্দিষ্ট এই পঞ্চায়েতের মহিলারা এক টাকাও পাচ্ছেন না।

হাইকোর্টে শুনানি, রাজ্যের রিপোর্ট তলব
মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল-এর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলা বিচারাধীন থাকলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়ায় রাজ্যের কোনও আইনি বাধা থাকার কথা নয়।
আইনজীবীর দাবি—‘সেপ্টেম্বর থেকেই টাকা বন্ধ’
মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ হয়ে রয়েছে। অথচ প্রকল্প অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ভাতা পৌঁছনোর কথা।

প্রকল্প অনুযায়ী কত টাকা পাওয়ার কথা?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১,২০০ টাকা করে ভাতা পান। অন্য শ্রেণির মহিলারা পান ১,০০০ টাকা। কিন্তু অভিযোগ, এই পঞ্চায়েতের উপভোক্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সেই অর্থ থেকে বঞ্চিত।
‘সবাই পাচ্ছে, শুধু আমরাই পাচ্ছি না’
মামলাকারীদের দাবি, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা নেই। রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় টাকা পৌঁছচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম ঘটছে। এই অসঙ্গতির কারণ জানতে চেয়েই রাজ্যের রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।

ময়না বিধানসভার বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতে ছ’মাস ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা না মেলার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা। মামলার শুনানিতে রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।










