বর্তমান সময়ে অফিসের কাজ থেকে পড়াশোনা—সব ক্ষেত্রেই ল্যাপটপ ও মনিটরের ব্যবহার বেড়েছে। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে স্ক্রিনে ধুলো, আঙুলের ছাপ ও বিভিন্ন ধরনের দাগ জমা হওয়া স্বাভাবিক। সেই দাগ তুলতে গিয়ে অনেকেই চশমা পরিষ্কারের ক্লিনার ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই ছোট ভুলই ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কেন ক্ষতিকর চশমার ক্লিনার?
আধুনিক ল্যাপটপ ও মনিটরের স্ক্রিনে বিশেষ ধরনের অ্যান্টি-গ্লেয়ার এবং সুরক্ষামূলক কোটিং থাকে। চশমার ক্লিনার বা রাসায়নিকযুক্ত অন্যান্য পরিষ্কারক দ্রব্যে এমন কিছু উপাদান থাকতে পারে, যা এই কোটিং ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দেয়। ফলে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমে যেতে পারে, প্রতিফলন বেড়ে যেতে পারে এবং ডিসপ্লের গুণমানও নষ্ট হতে পারে।
স্ক্রিন পরিষ্কারের সঠিক পদ্ধতি কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন পরিষ্কার করার আগে ডিভাইস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এরপর একটি পরিষ্কার মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করতে হবে। কাপড়টিকে সামান্য ভিজিয়ে নিতে পারেন হালকা গরম জল বা জল ও আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলের ১:১ অনুপাতের মিশ্রণে। তবে কোনও অবস্থাতেই সরাসরি স্ক্রিনের উপর তরল স্প্রে করা যাবে না।
দাগ তুলতে জোরে ঘষবেন না
স্ক্রিনে জমে থাকা আঙুলের ছাপ বা দাগ পরিষ্কার করার সময় ধীরে ধীরে গোলাকার ভঙ্গিতে মুছতে হবে। অনেকেই দ্রুত পরিষ্কার করতে গিয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, যা স্ক্রিনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জেদি দাগ থাকলে ধৈর্য ধরে কয়েকবার মুছতে হবে, কিন্তু কখনও জোরে ঘষা উচিত নয়।
কতদিন অন্তর পরিষ্কার করা দরকার?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি এক থেকে দুই সপ্তাহ অন্তর স্ক্রিন পরিষ্কার করা ভালো। এতে ধুলো ও ময়লা জমার সম্ভাবনা কমে যায়। যদি স্ক্রিনে কোনও পানীয় বা অন্য তরল ছিটকে পড়ে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তা পরিষ্কার করা উচিত। দীর্ঘ সময় ফেলে রাখলে স্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে।
গোল করে মুছতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা কেন?
শুধু ওপর থেকে নিচে বা একদিক থেকে অন্যদিকে মুছলে অনেক সময় শুকিয়ে যাওয়ার পরে স্ট্রিক বা রেখার মতো দাগ দেখা যায়। গোলাকারভাবে পরিষ্কার করলে সেই সম্ভাবনা কমে যায় এবং স্ক্রিনে সমানভাবে পরিষ্কারভাব বজায় থাকে। তাই ‘সার্কুলার মোশন’ পদ্ধতিকেই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ মনিটরের স্ক্রিন পরিষ্কার করতে অনেকেই চশমার ক্লিনার ব্যবহার করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্ক্রিনের অ্যান্টি-গ্লেয়ার ও প্রোটেক্টিভ কোটিং নষ্ট করে দিতে পারে। সঠিক পদ্ধতিতে স্ক্রিন পরিষ্কার করলে ডিভাইস দীর্ঘদিন নতুনের মতো রাখা সম্ভব।













