লিংকডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান: স্টার্টআপ মানে ‘ওয়ার্ক-ওয়ার্ক ব্যালেন্স’

লিংকডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের মতে, স্টার্টআপের সাফল্যের জন্য ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ নয়, ‘ওয়ার্ক-ওয়ার্ক ব্যালেন্স’ অপরিহার্য। জানুন তাঁর স্টার্টআপ ও AI সম্পর্কে মতামত।

স্টার্টআপের জগৎটা দেখতে অনেক গ্ল্যামারাস এবং বড় বড় ফান্ডিং রাউন্ডে ভরা, কিন্তু এই জৌলুসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সংগ্রাম ও ত্যাগ কত কম লোক বুঝতে পারে! LinkedIn-এর কো-ফাউন্ডার রিড হফম্যান (Reid Hoffman) এই সত্যটা শুধু নিজে অনুভব করেননি, তাঁর দলকেও শিখিয়েছেন – স্টার্টআপ মানে দিনরাত পরিশ্রম, আর যদি আপনি ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’-এর ধারণা নিয়ে আসেন, তাহলে হয়তো আপনি এর জন্য তৈরিই নন।

যখন হফম্যান বলেছিলেন: ‘ডিনার করো, তারপর ল্যাপটপ খুলো’

রিড হফম্যানের মতে, যখন LinkedIn-এর সূচনা হচ্ছিল, তখন তিনি তাঁর দলকে বলেছিলেন – “বাড়ি যাও, তোমার পরিবারের সাথে ডিনার করো… কিন্তু তারপর ফিরে আসো, ল্যাপটপ খুলো এবং আবার কাজ শুরু করো।” অর্থাৎ, পরিবারের জন্য একটু জায়গা আছে, কিন্তু স্টার্টআপের জন্য পূর্ণ নিষ্ঠা ও সমর্পণ অপরিহার্য।

সম্প্রতি তিনি একটি পডকাস্টেও এই কথাটি পুনরাবৃত্তি করেছেন। হফম্যান মনে করেন স্টার্টআপের সাফল্য ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ নয়, বরং ‘ওয়ার্ক-ওয়ার্ক ব্যালেন্স’ থেকে আসে। অর্থাৎ, কাজের পর আবার কাজ।

স্টার্টআপ ফাউন্ডারের প্রয়োজন পূর্ণ সমর্পণ

লিংকডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান: স্টার্টআপ মানে ‘ওয়ার্ক-ওয়ার্ক ব্যালেন্স’

হফম্যান মনে করেন, যদি কোনও স্টার্টআপ ফাউন্ডার নিজেকে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্সের সীমার মধ্যে আবদ্ধ করে, তাহলে সে স্টার্টআপের আসল চাহিদা বুঝতে পারছে না। ২০১৪ সালে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে একটি ক্লাসের সময় তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন – ‘স্টার্টআপের জগৎ কোনও সফ্ট ড্রিঙ্ক নয়, এটি একটি মারাত্মক যুদ্ধ। এখানে প্রতিদিন নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। আর যদি আপনি পুরোদমে কাজ না করেন, তাহলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যেতে পারেন।’

স্টার্টআপ চালানো মানে প্রতিদিন অগ্নিপরীক্ষা। কোনও টাইম লিমিট নেই, কোনও ‘উইকেন্ড’ নেই। এই গেমটি তাদের জন্যই, যারা জিততে সবকিছু ঝুঁকিয়ে দেয়।

সামূহিক পরিশ্রমে জয়ের সূত্র

রিড হফম্যান এও বলেছেন যে একটি স্টার্টআপকে সফল করার জন্য শুধু একজন মানুষের পরিশ্রম নয়, বরং পুরো দলের সামূহিক শক্তির প্রয়োজন। যখন একটি দল একসাথে ভাবে, লড়াই করে, পড়ে এবং আবার উঠে দাঁড়ায় – তখনই কিছু বড় কিছু তৈরি হয়। তাঁর মতে, LinkedIn-এর সাফল্য শুধুমাত্র প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে না, বরং সেই দলবদ্ধতার উপরও নির্ভর করে যারা তাদের আরাম ও ঘুম ত্যাগ করে কোম্পানিকে গড়ে তুলেছে।

ChatGPT-র প্রশংসায় রিড হফম্যান

রিড হফম্যান আজও প্রযুক্তির জগতে সক্রিয় এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) নিয়ে বেশ উৎসাহী। সম্প্রতি তিনি Reddit-এ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে একজন ব্যবহারকারী ChatGPT-এর সাহায্যে পাঁচ বছরের পুরানো একটি মেডিকেল সমস্যার সমাধান এক মিনিটের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। যখন ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কোনও লাভ হয়নি, তখন ChatGPT ‘জাবড়া ক্লিক’ সমস্যার কারণ এবং সমাধান খুঁজে বের করে।

লিংকডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান: স্টার্টআপ মানে ‘ওয়ার্ক-ওয়ার্ক ব্যালেন্স’

এই ঘটনাটি শেয়ার করে হফম্যান এক প্রকারে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে ভবিষ্যতে AI শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, স্বাস্থ্য খাতেও বিপ্লব আনতে পারে। তাঁর মতে, ChatGPT-এর মতো প্রযুক্তি সাধারণ মানুষকে সবল করছে।

আমেরিকার নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

রিড হফম্যান শুধুমাত্র স্টার্টআপ ও AI-তেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি আমেরিকার নীতি ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিষয়গুলির উপরও গভীর নজর রাখেন। তিনি ট্রাম্প সরকারের কিছু অর্থনৈতিক নীতি, বিশেষ করে ট্যারিফ এবং সরকারি ব্যয় কমানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরণের নীতিগুলি আমেরিকার পরিবর্তে চীনকে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নতি করার সুযোগ দেয়।

লিংকডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান: স্টার্টআপ মানে ‘ওয়ার্ক-ওয়ার্ক ব্যালেন্স’

তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যদি আমেরিকা বিজ্ঞান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে কমতি করে, তাহলে তা শীঘ্রই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হারাবে। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় আমেরিকা এবং চীন आमने-सामने থাকার সময় হফম্যানের এই মতামত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কূটনীতি ও বৈশ্বিক চিন্তাভাবনার প্রয়োজন

হফম্যান মনে করেন শুধুমাত্র প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনই যথেষ্ট নয়। আমেরিকাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে চিন্তা করার প্রয়োজন। তিনি মনে করেন সঠিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং শিক্ষায় যথাযথ বিনিয়োগই দেশকে প্রযুক্তির পরবর্তী প্রজন্মে অগ্রণী করে তুলতে পারে।

স্টার্টআপের পাশাপাশি, হফম্যান এও মনে করেন যে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রযুক্তির সাথে ‘মানবিকতা ও বুদ্ধিমত্তার’ও তেমনি প্রয়োজন।

Leave a comment