তামিলনাড়ুতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন নারীদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা প্রদান কর্মসূচির সূচনা করেছেন। এই উদ্যোগের অধীনে ইতোমধ্যে ১.৩১ কোটি মহিলা উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫০০০ টাকা করে স্থানান্তর করা হয়েছে।
চেন্নাইয়ে ঘোষিত এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল মাসের অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই কর্মসূচি ‘উইমেন্স রাইটস গ্রান্ট’-এর আওতায় বাস্তবায়ন করছে।
রাজ্য সরকারের বর্তমান মেয়াদ ১০ মে শেষ হবে এবং এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচন নির্ধারিত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনাটিকে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন রাজ্যে নারীদের সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদানকারী কর্মসূচি নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
‘কালাইগনার উইমেন্স রাইটস স্কিম’-এর অধীনে যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ১০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এবার সরকার তিন মাসের অগ্রিম অর্থ প্রদানের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০০০ টাকার ‘সমার স্পেশাল প্যাকেজ’ যুক্ত করেছে, যার ফলে মোট ৫০০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ বলেছেন, এই কর্মসূচি নারীদের অধিকার শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এটি কোনো পরিস্থিতিতেই বন্ধ করা হবে না। তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে মাসিক সহায়তার পরিমাণ ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হবে।
২০২৩ সালের পর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে নারীদের সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদানের কৌশল নির্বাচনী সাফল্যের একটি প্রধান উপাদান হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রদেশে ‘লাড়লি বহনা যোজনা’ চালুর মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং বিহারেও অনুরূপ কর্মসূচি নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
ঝাড়খণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন একই ধরনের একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং পুনরায় ক্ষমতায় এলে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন। তামিলনাড়ুতে স্টালিনের কৌশলকে ওই মডেল দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করে এবং নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও পারিবারিক সিদ্ধান্তগ্রহণে অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, এ ধরনের কর্মসূচি রাজকোষের ওপর চাপ বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলের সঙ্গে এর ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। তামিলনাড়ুর মতো বৃহৎ রাজ্যে ১.৩১ কোটি উপভোক্তাকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজেটারি সিদ্ধান্ত।










