কৃষিতে বৈচিত্র্যই এখন টিকে থাকার মূলমন্ত্র। সেই সূত্রেই উত্তর ২৪ পরগনার গ্রামাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে নতুন চাষের হাওয়া। চিরাচরিত ধান বা পাটের বদলে মিশ্র পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করে তাক লাগাচ্ছেন কৃষকেরা। ফলন যেমন সন্তোষজনক, তেমনই বাজারদরও আশাব্যঞ্জক—ফলে জমিতে যেন ‘সোনা’ ফলছে।
ধানের বিকল্পে ভুট্টা—নতুন দিশা কৃষিক্ষেত্রে
এতদিন এই অঞ্চলে ধান, গম ও পাটই ছিল প্রধান ভরসা। কিন্তু আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে কৃষকেরা বিকল্প ফসলের সন্ধান করছিলেন। সেই জায়গায় ভুট্টা চাষ এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও ভাল ফলনে উৎসাহ বেড়েছে।
মিশ্র চাষেই সাফল্যের চাবিকাঠি
সরিষা, সিম, আলু ও অন্যান্য সবজির জমির ফাঁকেই লাগানো হচ্ছে ভুট্টা। এতে জমির পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে। একই জমি থেকে একাধিক ফসল ওঠায় আয়ও বাড়ছে। কৃষকদের দাবি, অল্প জল ও স্বল্প সারেই ভুট্টা ভালো ফলন দেয়, ফলে খরচ কম এবং লাভের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
দানা তো বটেই, গাছেও মিলছে বাড়তি রোজগার
শুধু ভুট্টার দানা নয়, গাছও এখন অর্থের উৎস। পশুখাদ্য হিসেবে ভুট্টা গাছের চাহিদা স্থানীয় বাজারে যথেষ্ট। ফলে দানা বিক্রির পাশাপাশি গাছ বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করছেন কৃষকেরা। এক ফসল থেকে দ্বিগুণ লাভ—এই সমীকরণই ভুট্টাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বাজারে বহুমুখী চাহিদা
রাস্তার ধারে পোড়া ভুট্টা যেমন জনপ্রিয়, তেমনই ভুট্টা থেকে তৈরি হচ্ছে কর্নফ্লেক্স, পপকর্ন, স্টার্চসহ নানা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য। পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় এই পণ্যের বাজার ক্রমশ বাড়ছে। ফলে কৃষকেরাও স্থায়ী চাহিদার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন।
ভবিষ্যতের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা?
কম পরিচর্যা, কম রোগবালাই এবং দ্রুত ফলনের কারণে ভুট্টা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের মতে, সঠিক বাজার সংযোগ ও সরকারি সহায়তা মিললে এই ফসল আগামী দিনে জেলার কৃষি অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে।
উত্তর ২৪ পরগনার Basirhat ও Baduria অঞ্চলে ধান ছেড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। মিশ্র চাষ পদ্ধতিতে একই জমি থেকে একাধিক ফসলের পাশাপাশি ভুট্টার দানা ও গাছ বিক্রি করেও মিলছে বাড়তি আয়। কম খরচ, কম রোগবালাই এবং বাজারে ভালো চাহিদাই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।













