ছুটির মরশুম এলেই পিকনিক বা ছোট্ট ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়। তবে দূরে না গিয়েও যে মনভরানো অবকাশ যাপন সম্ভব, তারই প্রমাণ দিচ্ছে মালদহ শহরের গা ঘেঁষা আমজামতলা এলাকার এই নতুন পিকনিক স্পট। নীল আকাশ, বিশাল জলরাশি আর সবুজের মাঝে একান্ত সময় কাটাতে এখানে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে।
শহরের পাশেই ‘ছোট্ট স্বর্গ’
মালদহ শহর থেকে খুব অল্প দূরত্বে যদুপুর ১ ব্লকের আমজামতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০ বিঘা জমির উপর বিস্তৃত এই সবুজে ভরা পার্ক। শহরের কোলাহল ছেড়ে কয়েক মুহূর্তে প্রকৃতির সান্নিধ্যে পৌঁছে যাওয়াই এই জায়গার বড় আকর্ষণ।
বোটিং থেকে জিপ লাইন—রোমাঞ্চের অভাব নেই

এই পার্কে রয়েছে ঝিলের মধ্যে বোটিংয়ের ব্যবস্থা। পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে জিপ লাইন। শিশুদের জন্য আলাদা খেলার সরঞ্জাম, শরীরচর্চার জন্য জিম এবং বিশ্রামের জন্য খোলামেলা জায়গা থাকায় পরিবার নিয়ে আসার আদর্শ ঠিকানা হয়ে উঠছে এটি।
পশু-পাখি, ফুলের বাগান ও সেলফি জোন
পার্কের আর এক বড় আকর্ষণ হল দেশ-বিদেশের নানা প্রজাতির পশু ও পাখি। পাশাপাশি শতাধিক রকমের ফুলের বাগান ও সাজানো সেলফি জোন থাকায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও জনপ্রিয়তা বাড়ছে দ্রুত।

এন্ট্রি ফি কত? কী বলছেন পর্যটকরা?
এই পার্কে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৩০ টাকা এন্ট্রি ফি নির্ধারিত হয়েছে।
পার্কে ঘুরতে আসা পর্যটক রিয়া বলেন,
“খুবই সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ। শীতের মরশুমে সঙ্গীকে নিয়ে একান্ত সময় কাটানোর জন্য এর থেকে ভালো জায়গা হতে পারে না।”

পিকনিক বুকিং কবে থেকে?
পার্কের কর্ণধার দেবব্রত সরকার জানান,“আগামী ১৪ ডিসেম্বর থেকে পিকনিকের বুকিং নেওয়া শুরু হবে। একসঙ্গে ১৫ থেকে ২০টি দল এখানে পিকনিক করতে পারবে। শীত পড়লেই প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে মানুষের ঢল নামে।”
শীতের মরশুমে পিকনিক মানেই দূরে কোথাও ছুটে যাওয়া—এই ধারণা ভেঙে দিচ্ছে মালদহ শহর লাগোয়া আমজামতলার নতুন পার্ক। বিশাল জলাশয়, বোটিং, জিপ লাইন থেকে শুরু করে সবুজে মোড়া পরিবেশ—সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ভ্রমণপিপাসুদের নতুন স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে এই জায়গা।













