জাতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে আবারও সাফল্যের ঝলক মালদহের। পঞ্জাবের লুধিয়ানায় আয়োজিত ২১তম ন্যাশনাল ইউথ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপস ২০২৬-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেন জেলার দুই প্রতিভাবান অ্যাথলিট। অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জ্যাভলিন থ্রোয়ে সোনা জিতলেন মিষ্টি কর্মকার। অন্যদিকে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় হয়ে জোড়া রুপো ঘরে তুললেন মেহবুবুল আহমেদ।
লুধিয়ানায় জাতীয় মঞ্চে মালদহের দাপট
১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পঞ্জাবের লুধিয়ানার গুরু নানক স্টেডিয়ামে বসেছিল জাতীয় যুব অ্যাথলেটিক্সের আসর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নেন এই প্রতিযোগিতায়।সেখানেই অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জ্যাভলিন থ্রোয়ে নিজের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরে নজর কাড়েন মালদহের মিষ্টি কর্মকার। আর ট্র্যাক ইভেন্টে দুরন্ত গতি দেখিয়ে একই প্রতিযোগিতা থেকে দুটি পদক জিতে নেন মেহবুবুল।
৫২.৮৪ মিটার ছুড়ে সোনা মিষ্টির
জ্যাভলিন হাতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন মিষ্টি কর্মকার। ৫২.৮৪ মিটার দূরত্বে জ্যাভলিন ছুড়ে অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা বিভাগে প্রথম স্থান দখল করেন তিনি।জাতীয় পর্যায়ে ফের সেরা হয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত মালদহ রেলওয়ে হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী। এর আগেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন মিষ্টি।
১০০ ও ২০০ মিটারে মেহবুবুলের জোড়া রুপো
ট্র্যাকেও মালদহের পতাকা উড়েছে। অনূর্ধ্ব-১৮ ছেলেদের বিভাগে ১০০ মিটার দৌড় ১০.৬৯ সেকেন্ডে শেষ করে দ্বিতীয় হন মেহবুবুল আহমেদ।এরপর ২০০ মিটার স্প্রিন্টেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখেন তিনি। ২১.৬৯ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ফের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ফলে একই জাতীয় প্রতিযোগিতা থেকে তাঁর ঝুলিতে আসে জোড়া রুপো।
অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া, তবু লক্ষ্য আরও বড়
মহদিপুর হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মেহবুবুল জানিয়েছেন, পায়ে সামান্য চোট না থাকলে ফল আরও ভালো হতে পারত বলে তাঁর মনে হয়েছে। তবে দুটি রুপো জিতেও তিনি সন্তুষ্ট।আগামী দিনে আরও কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভালো ফল করাই তাঁর লক্ষ্য। দেশের হয়ে আরও বড় সাফল্য অর্জনের স্বপ্নও রয়েছে এই তরুণ স্প্রিন্টারের।
বাংলার পাঁচ পদকের তিনটিই মালদহের
এই প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের মোট পাঁচটি পদকের মধ্যে তিনটি পদক এসেছে মালদহের দুই অ্যাথলিটের হাত ধরে। ফলে তাঁদের সাফল্যে জেলার ক্রীড়ামহলে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।দুই অ্যাথলিটের সাফল্যের পিছনে তাঁদের কোচ অসিত পালের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই তাঁর কাছেই অ্যাথলেটিক্সের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মিষ্টি ও মেহবুবুল।
দুজনেরই চলছে উন্নত প্রশিক্ষণ
জাতীয় স্তরে সাফল্যের পরও থেমে থাকতে চান না দুই অ্যাথলিট। বর্তমানে মিষ্টি পঞ্জাবের পাটিয়ালায় এবং মেহবুবুল কলকাতার স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI) ক্যাম্পে উন্নত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।নিয়মিত অনুশীলন ও আরও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামী দিনে তাঁরা আরও বড় মঞ্চে সাফল্য এনে দেবেন—এই আশাতেই তাকিয়ে মালদহের ক্রীড়াপ্রেমীরা।
জাতীয় স্তরের অ্যাথলেটিক্স মঞ্চে ফের উজ্জ্বল মালদহ। ২১তম ন্যাশনাল ইউথ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপস ২০২৬-এ জেলার দুই তরুণ অ্যাথলিট মিষ্টি কর্মকার ও মেহবুবুল আহমেদ নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছেন। মিষ্টির জ্যাভলিনে সোনা এবং মেহবুবুলের ১০০ ও ২০০ মিটারে জোড়া রুপোয় গর্বিত মালদহ।











