মালদায় কি ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠছে তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণ? বিধানসভা নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ঠিক আগেই জেলা রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কোথাও প্রার্থী হতে হুড়োহুড়ি, আবার কোথাও প্রার্থী সংকট—এই দুই চিত্রই এখন তৃণমূলের কাছে বড় মাথাব্যথার কারণ।

রতুয়ায় প্রার্থী হতে লাইন, বাড়ছে দলের অস্বস্তি
মালদার রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের অন্দরে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ ঘিরে কার্যত হইচই। খোদ বর্তমান বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, রতুয়া কেন্দ্রে অন্তত ১৬ জন নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, রতুয়া তৃণমূলের জন্য ‘সেফ সিট’, তবে সেই নিরাপত্তা সবার জন্য নয়। এই মন্তব্য ঘিরেই দলীয় অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্যে ইন্ধন
রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের সুরেই বক্তব্য রেখেছেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছোটন মল্লিক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে বহু নেতা প্রকাশ্যেই নিজেদের প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করছেন। এতে সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
ইংরেজবাজারে উল্টো ছবি, প্রার্থী হতে অনীহা!
রতুয়ার বিপরীতে মালদার ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। তৃণমূলেরই একাংশের দাবি, এই কেন্দ্রে প্রার্থী হতে এগিয়ে আসছেন না কেউ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। এরপর থেকেই এই আসন নিয়ে দলের ভিতরে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

লোকসভা ভোটের ফল বাড়াচ্ছে চিন্তা
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, হিন্দু অধ্যুষিত ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে রতুয়ায় তুলনামূলকভাবে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও বিজেপি খুব একটা পিছিয়ে নেই। এই পরিসংখ্যানই ইংরেজবাজার নিয়ে তৃণমূলের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর
ইংরেজবাজার কেন্দ্র প্রসঙ্গে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর বক্তব্য, প্রার্থী ঠিক করবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তবে এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের বহু ছোট ও মাঝারি স্তরের নেতা নাকি স্বীকার করছেন যে ইংরেজবাজারে দাঁড়াতে কেউই রাজি নন।
মৌসম নূরের ইস্তফায় আরও চাপ
সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন মালদার ভূমিকন্যা মৌসম বেনজির নূর। তাঁর প্রস্থান তৃণমূলের সংগঠনে বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে মালদাকে বিশেষ নজরে রেখেছে বিজেপিও।

বিধানসভা ভোটের মুখে মালদায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি। রতুয়া আসনে যেখানে একাধিক প্রার্থী দাবিদার, সেখানে ইংরেজবাজার কেন্দ্রে প্রার্থী হতে অনীহা—এই বৈপরীত্যই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে দলের সংগঠন ও কৌশল নিয়ে।













