দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে নতুন করে চাকরি পেতে চলেছেন ১,৯৮২ জন প্রার্থী। বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। পর্ষদ সূত্রে খবর, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

কোন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এই ১,৯৮২ জন?
২০২২ সালে রাজ্যে প্রায় পৌনে ১২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময় এই ১,৯৮২ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাঁরা সকলেই টেট উত্তীর্ণ হলেও ২০২০–২২ শিক্ষাবর্ষে ডিএলএড কোর্সে পড়াশোনা চলাকালীন থাকায় তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ডিএলএড কোর্স অসম্পূর্ণ থাকায় কেন বাদ পড়েন তাঁরা?
নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের ডিএলএড কোর্স সম্পূর্ণ হয়নি—এই যুক্তিতেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ তাঁদের আবেদন বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে প্রার্থীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত স্পষ্ট জানায়, কোর্স শেষ না হলেও চাকরির জন্য তাঁদের বিবেচনা করা উচিত।
ইন্টারভিউতে বেশি নম্বর, তৈরি হয় আইনি জটিলতা
হাইকোর্টের নির্দেশে ইন্টারভিউ নেওয়ার পর দেখা যায়, এই প্রার্থীদের অনেকেরই নম্বর ইতিমধ্যেই নিযুক্ত শিক্ষকদের তুলনায় বেশি। ফলে তাঁদের চাকরি দিতে গেলে আগের চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি থেকেই শুরু হয় নতুন আইনি টানাপোড়েন।

মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে
বিষয়টি শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত অবমাননার মামলাও দায়ের হয়। দীর্ঘ শুনানির পর সিদ্ধান্ত হয়—বর্তমান চাকরিপ্রাপ্তদের কোনও ক্ষতি না করে, বাড়তি শূন্যপদে এই ১,৯৮২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তি জারি, জটিলতার অবসান
আদালত অবমাননার মামলা ৯ জানুয়ারি ফের সুপ্রিম কোর্টে ওঠার আগেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করায় জটিলতার অনেকটাই অবসান ঘটল। পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল জানান, “মেধার ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশ মেনে ১,৯৮২ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।”
চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব নয়
পর্ষদ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে ১৩,৪২১টি শূন্যপদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, এই নতুন নিয়োগ তার উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলে নতুন করে নিয়োগ হতে চলেছে ১,৯৮২ জন শিক্ষক। ডিএলএড কোর্স অসম্পূর্ণ থাকার কারণে যাঁরা আগে বাদ পড়েছিলেন, তাঁদেরই বাড়তি শূন্যপদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে আগে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের কোনও সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।










