Malda News: কৃষক-দিনমজুরের ছেলের গলায় সোনার পদক! রাজ্য তাইকোন্ডোয় মালদার বিজয়-আরাধ্যার জোড়া সাফল্য

রাজ্য তাইকোন্ডো প্রতিযোগিতায় মালদার বিজয় মুদি সোনা ও আরাধ্যা পান ব্রোঞ্জ জিতেছে। প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁদের সাফল্য এবং বিজয়ের জাতীয় স্কুল গেমসের সুযোগ জানুন।

স্বপ্নটা বড়, কিন্তু পথটা সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক প্রতিকূলতা, সীমিত সুযোগ—সবকিছুকে পিছনে ফেলে তাইকোন্ডোর ম্যাটে একের পর এক লড়াই চালিয়ে গিয়েছে মালদার গাজোলের দুই কিশোর-কিশোরী। ফলও মিলেছে হাতেনাতে। রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছে বিজয় মুদি, আর ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে আরাধ্যা পান। তাঁদের সাফল্যে গর্বিত পরিবার থেকে শুরু করে কোচ এবং গোটা গাজোলের ক্রীড়ামহল।

রাজ্য প্রতিযোগিতায় মালদার দুই পদক

গত ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর হাওড়ার ডুমুরজোলার হাওড়া ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ৭০তম পশ্চিমবঙ্গ স্টেট স্কুল গেমস। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিযোগীরা এই আসরে অংশ নেয়।মালদার হয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে নজর কাড়ে গাজোলের দুই পড়ুয়া। হাজিনাকো বয়েজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র বিজয় মুদি অনূর্ধ্ব-১৭ বালক বিভাগের ৫৫ থেকে ৫৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জয় করে।অন্যদিকে সিউচাঁদ পরমেশ্বরী বিদ্যামন্দিরের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আরাধ্যা পান অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের ৩২ থেকে ৩৫ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে।

সোনার সঙ্গে মিলল জাতীয় স্কুল গেমসের টিকিট

রাজ্য প্রতিযোগিতায় সোনা জেতার সুবাদে বিজয় এবার জাতীয় স্কুল গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে রাজ্য জয়ের পর তার সামনে এখন আরও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ।এর আগে জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ পেলেও প্রত্যাশামতো ফল করতে পারেনি বিজয়। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় স্কুল গেমসে আরও ভালো ফল করার লক্ষ্য স্থির করেছে সে।বিজয়ের স্বপ্ন, দেশের সেরা হয়ে সোনা জিতে মালদার নাম আরও উজ্জ্বল করা।

কৃষক-দিনমজুর পরিবারের ছেলে বিজয়

বিজয়ের সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই। অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছে এই তরুণ তাইকোন্ডো খেলোয়াড়। তার বাবা রতন মুদি কৃষিকাজের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করেন। মা সারথি মুদি গৃহবধূ।পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও খেলাধুলার স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে যায়নি বিজয়। গত প্রায় আট বছর ধরে গাজোলের স্থানীয় তাইকোন্ডো অ্যাকাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সে।

তিন বছর ধরে অনুশীলনে আরাধ্যাও

বিজয়ের পাশাপাশি আরাধ্যার সাফল্যও কম নয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতা থেকে ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিরেছে সে।আরাধ্যাও একই অ্যাকাডেমিতে গত তিন বছর ধরে নিয়মিত অনুশীলন করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রশিক্ষণ চালিয়ে গিয়েই এই সাফল্য অর্জন করেছে সে।

কোচের হাত ধরে এগিয়ে চলা

দুই খেলোয়াড়ের এই সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁদের কোচ তপেশ কোড়ামুদি-র। দীর্ঘদিন ধরে গাজোলের অ্যাকাডেমিতে বিজয় ও আরাধ্যাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন তিনি।তবে রাজ্য থেকে জাতীয় স্তরে সাফল্য ধরে রাখতে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোর প্রয়োজন বলে মনে করছেন কোচ। তাঁর মতে, সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি আর্থিক সাহায্য এবং ভালো মানের প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অ্যাকাডেমিতে উন্নত মানের ম্যাটের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিজয়ের লক্ষ্য এবার দেশের সেরা হওয়া

রাজ্য স্তরে মালদার হয়ে সোনা জিতে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত বিজয়। তবে এখানেই থামতে চাইছে না সে। এবার তার লক্ষ্য জাতীয় স্কুল গেমস।আগের জাতীয় স্তরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও আত্মবিশ্বাসী বিজয়। দেশের সেরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে সোনা জেতাই এখন তার বড় স্বপ্ন।

রাজ্য স্তরের স্কুল তাইকোন্ডো প্রতিযোগিতায় মালদার দুই পড়ুয়ার নজরকাড়া সাফল্য। গাজোলের ১৬ বছরের বিজয় মুদি জিতেছে সোনা, আর ১৪ বছরের আরাধ্যা পান পেয়েছে ব্রোঞ্জ। প্রতিকূলতার মধ্যেও কঠোর অনুশীলন করে এই সাফল্য এসেছে। বিজয়ের হাত ধরে এবার জাতীয় স্কুল গেমসে খেলার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

Leave a comment