বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। বিশেষ করে নীল জলরাশির মাঝে তৈরি মালদ্বীপের ভাসমান কটেজে থাকার অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে চান বহু পর্যটক। কিন্তু খরচের কথা ভেবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় না অনেকেরই। তবে এবার সেই অনুভূতির কিছুটা স্বাদ পেতে পারেন বাংলার বুকেই। কলকাতার কাছেই ইছামতী নদীর ধারে অবস্থিত টাকিতে রয়েছে মালদ্বীপের আদলে তৈরি ভাসমান কটেজ। পুজোর ছুটিতে একদিন কিংবা কয়েক দিনের জন্য নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে এই জায়গাটি আপনার ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন।
![]()
কোথায় রয়েছে বাংলার এই ‘মালদ্বীপ’?
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহর টাকি দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ নদীর ওপারে বাংলাদেশের দৃশ্য, খোলা হাওয়া এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ। এবার সেই আকর্ষণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মালদ্বীপের আদলে তৈরি বিশেষ ভাসমান কটেজ।জলের ধারে তৈরি এই কটেজে সময় কাটানোর পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বিদেশে না গিয়েও ভিন্ন ধরনের অবকাশযাপনের অভিজ্ঞতা নিতে চান যাঁরা, তাঁদের কাছে এই রিসর্ট আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
ভাসমান কটেজে কী কী উপভোগ করবেন?
ছুটির দিনে শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে নদীর ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে টাকিতে। জলাশয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা, খোলা পরিবেশে বসে আড্ডা দেওয়া কিংবা অবসরে ছিপ দিয়ে মাছ ধরার মতো অভিজ্ঞতা ছুটিকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারে।বিশেষ করে পরিবার, বন্ধু কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে ছোট্ট ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে টাকি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে ভাসমান কটেজে থাকার খরচ, বুকিংয়ের নিয়ম এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
![]()
কত খরচে থাকা যাবে টাকিতে?
টাকিতে একদিন ঘুরে ফিরে আসার পাশাপাশি ইচ্ছা হলে কয়েক দিন থেকেও সীমান্ত শহরের পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। ইছামতী নদীর পাড়ে রয়েছে একাধিক ছোট-বড় হোটেল ও থাকার ব্যবস্থা।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ হোটেলের ভাড়া আনুমানিক ১,০০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মরসুম, ঘরের ধরন, সুযোগ-সুবিধা এবং পর্যটকদের ভিড় অনুযায়ী ভাড়ার পরিবর্তন হতে পারে। এই ভাড়া ভাসমান কটেজের জন্য প্রযোজ্য, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সেখানে থাকতে চাইলে আলাদা করে মূল্য ও বুকিংয়ের তথ্য যাচাই করে নিন।
কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে টাকি যাওয়ার অন্যতম সহজ উপায় হল লোকাল ট্রেন। শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদগামী লোকাল ট্রেনে টাকি রোড স্টেশনে পৌঁছনো যায়। যাত্রার সময় ট্রেনের পরিষেবা ও রুট অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।স্টেশন থেকে টোটো বা স্থানীয় পরিবহণের সাহায্যে ইছামতী নদীর পাড়ে পৌঁছনো যায়। ফলে গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি না দিয়েও স্বল্প খরচে এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা সম্ভব। ছুটির দিনে রওনা দেওয়ার আগে ট্রেনের সময়সূচি এবং ফেরার ট্রেনের তথ্য দেখে নিন।
![]()
শুধু নদী নয়, টাকিতে রয়েছে আরও একাধিক দর্শনীয় স্থান
টাকিতে গেলে শুধু ভাসমান কটেজ কিংবা ইছামতী নদী দেখেই ফিরে আসতে হবে না। শহর ও আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় জায়গা।
টাকি পুরনো রাজবাড়ি: এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ।
পুবের বাড়ি: স্থানীয় পর্যটনস্থল হিসেবে ঘুরে দেখতে পারেন।
মিনি সুন্দরবন: ম্যানগ্রোভ অরণ্যঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।
পুরনো জমিদারবাড়ি: এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
নদীর মোহনা: ইছামতী, কালিন্দী ও বিদ্যাধরী নদীর সংযোগস্থলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
একটি ছোট্ট সফরেই নদী, সবুজ প্রকৃতি, ইতিহাস এবং সীমান্ত এলাকার বিশেষ আবহ—সবকিছুর স্বাদ পেতে পারেন পর্যটকেরা।
![]()
পুজোর ছুটিতে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বাজেট বা সময়ের অভাবে কি পিছিয়ে আসতে হচ্ছে? তাহলে কলকাতার কাছেই ঘুরে আসতে পারেন উত্তর ২৪ পরগনার ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র টাকি থেকে। ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরে মালদ্বীপের আদলে তৈরি ভাসমান কটেজ পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। নদীর সৌন্দর্য, সবুজ পরিবেশ, মাছ ধরার সুযোগ এবং ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান—সব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে স্বল্প বাজেটে বেড়ানোর জন্য টাকি হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য।








