জিএসটি তুলে দেওয়া উচিৎ! বিজেপি রাজ্য পাচ্ছে টাকা, কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার

জিএসটি তুলে দেওয়া উচিৎ! বিজেপি রাজ্য পাচ্ছে টাকা, কেন্দ্রকে আক্রমণ মমতার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিএসটি মন্তব্য:সোমবার শিলিগুড়ির প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকারের আর্থিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলি জিএসটির অর্থ পাচ্ছে, অথচ পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য আটকে রাখা হয়েছে। দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে একাধিক জেলা প্রশাসক, দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং ভার্চুয়ালি যুক্ত ২২টি জেলার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রশাসনিক বৈঠকের শুরুতেই কেন্দ্রের আর্থিক নীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “জিএসটির টাকা রাজ্যের প্রাপ্য হিসেবে আমাদের হাতে না দিয়ে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিকে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের জিএসটি ফান্ড থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা চলে গিয়েছে। অথচ কেন্দ্র কোনও সহায়তা করছে না।”মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, জিএসটি কাঠামো এখন রাজ্যগুলির আর্থিক স্বাধীনতার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। “জি এস টি তুলে দেওয়া উচিৎ” — তাঁর এই মন্তব্যেই প্রতিফলিত হলো রাজ্য ও কেন্দ্রের অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব।

উত্তরবঙ্গের পুনর্গঠনে নতুন প্রকল্প

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গের পুনর্গঠন ও ত্রাণে ইতিমধ্যেই ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার-সহ মোট ২২টি জেলা ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যুক্ত ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান ও কৃষকদের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

চা শ্রমিক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘোষণা

চা শ্রমিকদের জন্য নতুন স্বাস্থ্য পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে কাজ করা মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার আরও পদক্ষেপ নিচ্ছে।”এর পাশাপাশি ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, কৃষক ও শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেও বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাজনীতি ও আর্থিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্কের টানাপোড়েন ফের সামনে এল। তিনি বলেন, “তারা প্রোগ্রামের নাম ঠিক করবে, কে কী পড়বে চাপিয়ে দেবে, কে কী খাবে সেটাও বলবে— এই নীতি রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী।”রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য আসন্ন রাজ্যসভা ও লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রবিরোধী বার্তা জোরদার করারই অংশ।

শিলিগুড়ির প্রশাসনিক বৈঠকে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, জিএসটির অর্থ বন্টনে অন্যায় হচ্ছে— বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলি সুবিধা পাচ্ছে, অথচ বাংলার প্রাপ্য আটকে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করেন তিনি।

Leave a comment