গোরখপুরে নির্মাণাধীন একটি নালায় পড়ে গিয়ে এক ব্যক্তির পেটে লোহার রড ঢুকে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আহত ব্যক্তি প্রায় পাঁচ মিনিট যন্ত্রণায় ছটফট করার পর মারা যান।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্সে খবর দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাস্তার ধারে নালার নির্মাণকাজ চলছিল। সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ওই সময় ব্যক্তি ভারসাম্য হারিয়ে নালায় পড়ে যান এবং নিচে বেরিয়ে থাকা লোহার রডের মধ্যে আটকে পড়েন।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আহত ব্যক্তি যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলেন, তবে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না।
কিছু মানুষ তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উত্তর প্রদেশে নির্মাণকাজ চলাকালীন নিরাপত্তা মান উপেক্ষা নিয়ে আগেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খোলা লোহার রড এবং ব্যারিকেড ছাড়া কাজ করার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। একাধিক ব্যবহারকারী প্রশাসনিক অবহেলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
গোরখপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণস্থলে ব্যারিকেড, সতর্কীকরণ বোর্ড এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। সামান্য অবহেলাও প্রাণঘাতী হতে পারে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।











