মণিপুর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং উগ্রপন্থী কার্যকলাপ দমনের লক্ষ্যে ২৬ ও ২৭ জুলাই বিভিন্ন জেলায় পৃথক অভিযান চালায়। এসব অভিযানে নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠনের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে একটি চুরি হওয়া স্কুটার উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুই সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশের দাবি, এসব অভিযানের উদ্দেশ্য উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক, অবৈধ কার্যকলাপ ও অপরাধের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
২৭ জুলাই মণিপুর পুলিশ কাকচিং জেলার সুগনু থানার নুংগু লামখাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন SOREPA-এর দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের পরিচয় মার্কস থিয়াম ওরফে টমপোক (২২) এবং হাইকৃজাম উইলিয়াম মেইতেই (২২)। তারা কাকচিং জেলার খোংগয়াম মাখা লীকাই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তারা নজরদারিতে ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য কার্যকলাপের তদন্ত করা হচ্ছে।
একই দিনে কাকচিং পুলিশ চান্দেল রোডে মোবাইল চেকপয়েন্টে দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়। তাদের পরিচয় মোহাম্মদ ইজাজ (১৯) এবং মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান (২৩), যারা সোরা মামাং লীকাই এলাকার বাসিন্দা। তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে নিবন্ধন নম্বরবিহীন লাল রঙের একটি হোন্ডা অ্যাক্টিভা ১২৫ ডিস্ক স্কুটার উদ্ধার করা হয়। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, স্কুটারটি আগে ইম্ফলের এমজি অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে চুরির অভিযোগে নথিভুক্ত ছিল। যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং দুই ব্যক্তিকে যানবাহন চুরি-সংক্রান্ত নেটওয়ার্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
২৭ জুলাই আরেকটি অভিযানে পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠন RPF/PLA-এর সক্রিয় সদস্য ইয়েন্দ্রেমবাম অথৌবা মেইতেই ওরফে আটোম্বা ওরফে তাকহেলংবা (২১)-কে গ্রেপ্তার করে। তিনি তেংনৌপাল জেলার মোরেহ প্রেমনগর ওয়ার্ড নম্বর ৪-এর বাসিন্দা। ইম্ফলের পোরোমপাত থানার নিউ লাম্বুলানে এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, অভিযুক্তের কার্যকলাপ এবং সংগঠনে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
পৃথক অভিযানে পুলিশ KCP (MFL)-এর সক্রিয় সদস্য এবং কথিত চাঁদাবাজ ইয়েনসেনবাম চন্দ্রসেন মেইতেই ওরফে পাসে (৫২)-কে গ্রেপ্তার করে। তাকে ইরিলবুং থানার লাংডুম লামখাই এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজিসহ অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তার যোগাযোগ অন্য কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২৬ জুলাই যৌথ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী KCP (PWG)-এর সক্রিয় সদস্য খোইসনাম নাওবা সিং (২৯) ওরফে ওয়াংলেনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ইম্ফল পশ্চিম জেলার নগামাপাল ফৌগেসাংবাম লীকাই এলাকার বাসিন্দা। তাকে লাংফেল থানার RIMS গেটের কাছ থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের মতে, তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে এবং সংগঠনের কার্যকলাপ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত কিছু সময় ধরে মণিপুরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি উগ্রপন্থী সংগঠন, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানের উদ্দেশ্য রাজ্যে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পুলিশের মতে, স্পর্শকাতর এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর নজরদারির পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ও বাড়ানো হচ্ছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সকল অভিযুক্তকে পৃথক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাদের যোগাযোগ কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে ছিল এবং তারা কোনো বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছে।











