ভাইয়ের জন্য পকেটে ডিম! খুশির এক কথায় মন গলল নেটদুনিয়ার, অভাবের সংসারের গল্পও ছুঁয়ে গেল হৃদয়

মগরাহাটের ৬ বছরের খুদে পড়ুয়া খুশি কর নিজের ডিম ভাইয়ের জন্য বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল। ‘পকেটে’ ডিম রাখার কারণ জানাতেই ভাইরাল খুশির মিষ্টি স্বীকারোক্তি।

ছোট্ট মেয়েটির মুখে তখন নিষ্পাপ হাসি। শিক্ষক জানতে চাইলেন, ডিম কোথায়? উত্তর এল, ‘‘পকেটে!’’ কিন্তু কেন পকেটে ডিম? ছয় বছরের খুশির পরের কথাতেই যেন থমকে গেলেন সকলে—নিজে ডিম খেলেও ভাইয়ের জন্য একদিন ডিম বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে সে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের এই খুদে পড়ুয়ার সরল ভালোবাসার গল্প এখন ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার মিষ্টি হাসির পাশাপাশি সামনে এসেছে পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনের কথাও।

ভাইয়ের জন্য ডিম জমিয়ে রাখল খুদে খুশি

ঘটনাটি মগরাহাটের জয়েন খান ফ্রি প্রাইমারি স্কুলের। প্রথম শ্রেণির ছাত্রী খুশি করের বয়স মাত্র ছয় বছর। স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবারে ডিম পেয়ে সেটি না খেয়ে পকেটে রেখে দিয়েছিল সে।পড়ুয়াদের নজরে রাখতে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান স্কুলের শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন। খুশির কাছে ডিমের কথা জানতে চাইলে সে জানায়, ডিমটি তার পকেটেই রয়েছে। এরপর শিক্ষক জানতে চান, পকেটে ডিম নিয়ে যাচ্ছে কেন?তখনই খুশির মুখ থেকে বেরিয়ে আসে সেই সরল উত্তর—ভাইয়ের জন্য ডিমটি বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে সে। মাত্র কয়েকটি কথাতেই ছোট্ট মেয়েটির ভাইয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পায়।

‘পকেটে’ ডিম! খুশির উত্তরেই শুরু ভাইরাল গল্প

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শোনা যায়, শিক্ষক খুশিকে ডিমের বিষয়ে প্রশ্ন করছেন। ডিম কোথায় জানতে চাইলে সে বলে, ‘‘পকেটে।’’ এরপর পকেটে কেন ডিম, সেই প্রশ্নের জবাবে খুশি জানায়, সে নিজে ডিম খায়, তবে ভাইয়ের জন্য একদিন ডিম নিয়ে যাচ্ছে।খুশির এমন সহজ-সরল কথা শুনে অবাক হয়ে যান শিক্ষকও। তিনি খুশিকে বলেন, ‘‘বেশ, তবে তুইও খাস কিন্তু।’’ এই ছোট্ট কথোপকথনই পরবর্তীতে মানুষের মন জয় করে নেয়।

এক ডিম ভাগ করে নেয় ভাই-বোন

খুশির পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তার বাবা শম্ভু কর পেশায় টোটোচালক। মা পল্লবী কর গৃহবধূ। সীমিত রোজগারের মধ্যেই সংসার চালাতে হয় তাঁদের।খুশি যখন ডিমটি বাড়িতে নিয়ে যায়, তখন সেটি একা খেয়ে নেয় না সে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, তার মা ডিমটি দু'ভাগ করে দেন। এরপর সেই ডিম ভাই-বোন দু'জনে ভাগ করে খায়। অভাবের মধ্যেও ভাইয়ের জন্য নিজের প্রাপ্য খাবার ভাগ করে নেওয়ার এই মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ করেছে মানুষকে।

স্কুলে প্রতি বুধবার দেওয়া হয় ডিম

জানা গিয়েছে, জয়েন খান ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে প্রায় ১৮৫ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে, প্রতি বুধবার ছাত্রছাত্রীদের খাবারের সঙ্গে ডিম দেওয়া হয়।সেই দিনই খুশির এই ঘটনা শিক্ষকের নজরে আসে। একটি ডিমকে ঘিরে খুদে পড়ুয়ার এমন ভালোবাসার গল্প যে এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, তা হয়তো কেউই ভাবতে পারেননি।

খুশির ভালোবাসায় মুগ্ধ স্কুল কর্তৃপক্ষ

খুশির এই কাণ্ডের কথা জানতে পেরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন পর্বতও বিস্মিত হন। ভাইয়ের প্রতি খুশির এই টান এবং নিজের খাবার ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতাকে তিনি প্রশংসা করেছেন।একদিকে ভাইয়ের প্রতি ছয় বছরের শিশুর অকৃত্রিম ভালোবাসা, অন্যদিকে পরিবারের আর্থিক অনটন—দুইয়ের মেলবন্ধনেই খুশির গল্পটি আরও বেশি হৃদয়স্পর্শী হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের ছয় বছরের খুদে পড়ুয়া খুশি করকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও। স্কুলের মিড-ডে মিলের ডিম নিজের জন্য না রেখে ভাইয়ের জন্য বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল সে। শিক্ষকের প্রশ্নের উত্তরে খুশির সরল স্বীকারোক্তি—‘‘ভাইয়ের জন্য একদিন নিয়ে যাচ্ছি’’—মন ছুঁয়ে গিয়েছে নেটিজেনদের। জানা গিয়েছে, অভাবের সংসারে সেই ডিমও ভাই-বোনের মধ্যে ভাগ করে খান তাঁরা।

Leave a comment