নিজের গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু মাসে কত টাকা বেতন হলে Maruti Celerio-এর মতো হ্যাচব্যাক কেনা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছন্দ হবে তা বুঝতে পারছেন না? তাহলে আগে থেকেই হিসাব করে নেওয়া জরুরি। গাড়ির অন-রোড দাম, ডাউন পেমেন্ট এবং লোনের সুদের হার বদলালে EMI-ও বদলে যায়। চলুন, Celerio-এর বেস মডেল থেকে শুরু করে তুলনামূলক দামি ভ্যারিয়েন্ট পর্যন্ত সম্ভাব্য EMI ও প্রয়োজনীয় বেতনের হিসাব দেখে নেওয়া যাক।
Maruti Celerio-এর দাম কত?
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, Maruti Suzuki Celerio-এর এক্স-শোরুম দাম প্রায় ৪.৭০ লক্ষ টাকা থেকে ৬.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ভ্যারিয়েন্ট, বিমা, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য চার্জ যোগ হওয়ার পর অন-রোড দাম প্রায় ৫.১০ লক্ষ টাকা থেকে ৭.৫৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে।অর্থাৎ, আপনি কোন ভ্যারিয়েন্ট কিনছেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার মোট গাড়ি কেনার বাজেট এবং EMI।
গাড়ি কেনার আগে 20/4/10 নিয়ম কী?
গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে একটি প্রচলিত বাজেটিং পদ্ধতি হল 20/4/10 rule। এর মূল ধারণা হল—
গাড়ির অন-রোড দামের অন্তত ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট রাখা।
গাড়ির লোনের মেয়াদ সাধারণত ৪ বছরের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা; তবে বাস্তবে অনেক ক্রেতা ৫ বছরের লোনও নেন।
মাসিক গাড়ির EMI যেন টেক-হোম বেতনের প্রায় ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে থাকে।
এটি কোনও বাধ্যতামূলক ব্যাংকিং নিয়ম নয়। ব্যক্তিগত আয়, অন্যান্য EMI, পরিবারের খরচ এবং সঞ্চয়ের উপর ভিত্তি করে গাড়ির বাজেট ঠিক করা উচিত।
৫.১০ লক্ষ টাকার Celerio কিনলে EMI কত?
ধরা যাক, আপনি Celerio-এর বেস LXi ভ্যারিয়েন্ট কিনছেন এবং অন-রোড দাম হচ্ছে প্রায় ৫.১০ লক্ষ টাকা।
২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিলে হিসাব দাঁড়াবে—
অন-রোড দাম: ₹৫.১০ লক্ষ
২০% ডাউন পেমেন্ট: প্রায় ₹১.০২ লক্ষ
ব্যাংক লোন: প্রায় ₹৪.০৮ লক্ষ
এবার যদি ৯.৫ শতাংশ বার্ষিক সুদে ৫ বছরের জন্য গাড়ির লোন নেওয়া হয়, তাহলে EMI আনুমানিক ₹৮,৫৬০ প্রতি মাসে হতে পারে।
মাসে কত টাকা বেতন হলে এই EMI সামলানো সম্ভব?
₹৮,৫৬০ EMI-কে যদি টেক-হোম বেতনের প্রায় ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে চান, তাহলে মাসিক আয় অন্তত ₹৩০,০০০-₹৩৫,০০০-এর আশেপাশে থাকা দরকার হতে পারে।তবে শুধু EMI দেখলেই হবে না। আপনার যদি আগে থেকেই অন্য কোনও লোন, বাড়িভাড়া, পরিবারের খরচ বা বড় মাসিক দায় থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
Celerio-এর দামি ভ্যারিয়েন্ট নিলে হিসাব কতটা বদলাবে?
এবার ধরুন, আপনি Celerio-এর তুলনামূলক দামি ZXi+ AMT বা CNG ভ্যারিয়েন্টের দিকে যাচ্ছেন। দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অন-রোড দাম প্রায় ₹৭.৫৪ লক্ষ হতে পারে।
২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিলে—
অন-রোড দাম: প্রায় ₹৭.৫৪ লক্ষ
ডাউন পেমেন্ট: প্রায় ₹১.৫০ লক্ষ
লোনের পরিমাণ: প্রায় ₹৬ লক্ষ
একইভাবে ৯.৫ শতাংশ সুদে ৫ বছরের লোন ধরলে মাসিক EMI আনুমানিক ₹১২,৬৬০ হতে পারে।এই EMI-কে বেতনের ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে চাইলে মাসিক টেক-হোম বেতন প্রায় ₹৪৫,০০০-₹৫০,০০০ বা তার বেশি হওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।
শুধু EMI নয়, জ্বালানি খরচও মাথায় রাখুন
গাড়ি কেনার সময় অনেকেই শুধু মাসিক কিস্তির হিসাব করেন। কিন্তু আসলে EMI-এর পাশাপাশি জ্বালানি, সার্ভিসিং, বিমা, পার্কিং এবং অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের খরচও রয়েছে।ধরা যাক, আপনি মাসে প্রায় ৮০০-১,০০০ কিলোমিটার গাড়ি চালান। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, Celerio-এর ভালো মাইলেজ সত্ত্বেও জ্বালানির জন্য মাসে আনুমানিক ₹৩,০০০-₹৪,০০০ খরচ হতে পারে। এর সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য গাড়ি সংক্রান্ত খরচও যোগ হবে।
এক নজরে পুরো EMI হিসাব
বিষয় Celerio LXi দামি ভ্যারিয়েন্ট/CNG
আনুমানিক অন-রোড দাম ₹৫.১০ লক্ষ ₹৭.৫৪ লক্ষ
২০% ডাউন পেমেন্ট ₹১.০২ লক্ষ ₹১.৫০ লক্ষ
আনুমানিক লোন ₹৪.০৮ লক্ষ ₹৬ লক্ষ
সুদের হার ৯.৫% ৯.৫%
লোনের মেয়াদ ৫ বছর ৫ বছর
আনুমানিক EMI ₹৮,৫৬০ ₹১২,৬৬০
সম্ভাব্য টেক-হোম বেতন ₹৩০-৩৫ হাজার ₹৪৫-৫০ হাজার
নোট: এগুলি উদাহরণভিত্তিক হিসাব। প্রকৃত EMI ব্যাংক বা NBFC-এর সুদের হার, প্রসেসিং ফি, লোনের পরিমাণ, মেয়াদ এবং আপনার ক্রেডিট প্রোফাইলের উপর নির্ভর করবে।
Maruti Celerio কিনতে চাইলে শুধু গাড়ির দাম জানলেই হবে না, সঙ্গে হিসাব করতে হবে ডাউন পেমেন্ট, লোনের সুদ, EMI, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫.১০ লক্ষ টাকার বেস মডেল কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের পর ৪.০৮ লক্ষ টাকার লোন নিলে ৯.৫ শতাংশ সুদে ৫ বছরের জন্য EMI প্রায় ৮,৫৬০ টাকা হতে পারে। সেই হিসেবে মাসিক টেক-হোম বেতন ৩০-৩৫ হাজার টাকার কাছাকাছি হলে EMI সামলানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।








