রাঢ় বাংলার মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল কোটি বছরের ইতিহাস। ১৯৬১ সালে ডিভিসির খাল খননের সময় আদুরিয়া জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় এক বিরল বৃক্ষ-জীবাশ্ম। আনুমানিক ১ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগের, অর্থাৎ Miocene যুগের এই দ্বিবীজপত্রী গাছের গুঁড়ি আজও নিঃশব্দে সাক্ষ্য দিচ্ছে প্রাগৈতিহাসিক অরণ্যের অস্তিত্বের।

আদুরিয়া জঙ্গলে প্রাগৈতিহাসিক আবিষ্কার
West Bengal-এর Purba Bardhaman district-এর আদুরিয়া জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় এই জীবাশ্ম। ১৯৬১ সালে ডিভিসির ক্যানেল খননের সময় বহু প্রাচীন নিদর্শনের সঙ্গে উঠে আসে পাথর হয়ে যাওয়া গাছের গুঁড়ি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভূকম্পনের ফলে অরণ্যভূমি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় এবং দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় কাঠটি ফসিলে পরিণত হয়।
মায়োসিন যুগের সাক্ষ্য
মায়োসিন যুগ পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত বিস্তৃত এই যুগে জলবায়ু ও উদ্ভিদ জগতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। আদুরিয়া থেকে পাওয়া এই জীবাশ্ম সেই সময়ের উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বহন করে।

রাঢ় বাংলার অরণ্য ইতিহাস
সাহিত্যিক রাধামাধব মণ্ডলের মতে, রাঢ় বাংলার মধ্যভূমি গোপভূমের প্রাচীন অজয় তীর একসময় ছিল গভীর বনাঞ্চল। Pandurajar Dhibi-র আবিষ্কার প্রমাণ করে, হাজার হাজার বছর আগে এখানে মানব বসতি গড়ে উঠলেও তার বহু আগেই গোটা এলাকা নিবিড় অরণ্যে আচ্ছন্ন ছিল।
অজয় তীরের আরও ফসিল
Amkhoy Fossil Park-এও মিলেছে বহু প্রাচীন বৃক্ষজীবাশ্ম। এসব নিদর্শন স্পষ্ট করে দেয়, অজয় নদী অববাহিকা একসময় সুবিশাল প্রাগৈতিহাসিক অরণ্যের অংশ ছিল।

ব্রিটিশ আমলের মানচিত্রেও জঙ্গলের ছাপ
ব্রিটিশ আমলে প্রস্তুত বাংলার মানচিত্রেও এই অঞ্চলে বিস্তীর্ণ জঙ্গলভূমির উল্লেখ পাওয়া যায়। আজ রমনাবাগানে সংরক্ষিত পাথর হয়ে যাওয়া গাছটি কেবল একটি ফসিল নয়, এটি পূর্ব বর্ধমানের অরণ্য ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

পূর্ব বর্ধমানের আদুরিয়া জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ বছরের প্রাচীন বৃক্ষ-জীবাশ্ম বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে Burdwan Zoological Park-এ। মায়োসিন যুগের এই ফসিল প্রমাণ করে, রাঢ় বাংলা একসময় ছিল সুবিশাল অরণ্যে আচ্ছন্ন।













