ঘর সাজানো থেকে শুরু করে বাস্তুশাস্ত্রে শুভ প্রতীক—মানি প্ল্যান্টের জনপ্রিয়তা সবসময়ই তুঙ্গে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই গাছ বাড়িতে পজিটিভ এনার্জি ও আর্থিক উন্নতি নিয়ে আসে। তবে গরম বাড়তেই অনেকের সাধের মানি প্ল্যান্টের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে কিংবা গাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। সঠিক যত্ন না নিলে অল্প সময়েই শুকিয়ে যেতে পারে এই জনপ্রিয় ইনডোর প্ল্যান্ট।

অতিরিক্ত জলেই বাড়ছে সমস্যা
অনেকেই মনে করেন, গরমে বেশি জল দিলেই মানি প্ল্যান্ট ভালো থাকবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণাই সবচেয়ে বড় ভুল। মাটি পুরো শুকিয়ে গেলে তবেই জল দেওয়া উচিত। অতিরিক্ত জল জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে, যার ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
এসির সামনে রাখবেন না মানি প্ল্যান্ট
অনেকেই ঠান্ডা পরিবেশে গাছ ভালো থাকবে ভেবে এসির সামনে মানি প্ল্যান্ট রাখেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, সরাসরি ঠান্ডা হাওয়া গাছের ক্ষতি করতে পারে। এতে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে এবং পাতার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়।
কোন দিকে রাখলে শুভ মানি প্ল্যান্ট?
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মানি প্ল্যান্ট রাখার সঠিক দিকও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব দিককে সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। এছাড়া উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকেও রাখা যেতে পারে। তবে উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মানি প্ল্যান্ট না রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোদ নয়, প্রয়োজন পরোক্ষ আলো
মানি প্ল্যান্ট সরাসরি রোদ পছন্দ করে না। তাই বারান্দা বা জানালার এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে পর্যাপ্ত আলো থাকবে কিন্তু কড়া রোদ পড়বে না। অতিরিক্ত রোদে পাতার রং দ্রুত ফিকে হয়ে যেতে পারে।
গাছের চারপাশেও রাখতে হবে নজর
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মানি প্ল্যান্টের আশপাশে এমন গাছ রাখা উচিত নয়, যেগুলির সঙ্গে সূর্য, মঙ্গল বা চাঁদের সম্পর্ক রয়েছে। এতে মানি প্ল্যান্টের শুভ প্রভাব কমে যেতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।

গরমে মানি প্ল্যান্ট ভালো রাখতে ৫ সহজ টিপস
মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই জল দিন
সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন
এসির সামনে গাছ রাখবেন না
দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখার চেষ্টা করুন
সপ্তাহে অন্তত একদিন পাতাগুলি পরিষ্কার করুন

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে মানি প্ল্যান্টের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া এখন খুব সাধারণ সমস্যা। অতিরিক্ত জল, ভুল জায়গায় রাখা বা এসির সামনে রাখার মতো ভুলে দ্রুত নষ্ট হতে পারে গাছ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই গরমেও মানি প্ল্যান্ট থাকবে সবুজ ও তরতাজা।













