একসময় যাঁকে বলা হত তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’, সংগঠনের অন্দরে যার কথাই ছিল শেষ কথা—সেই মুকুল রায়ের প্রয়াণে বঙ্গ রাজনীতিতে এক অধ্যায়ের অবসান। নব্বইয়ের দশকে বিকল্প কংগ্রেস গড়ার লড়াইয়ে মমতার ছায়াসঙ্গী হয়ে ওঠা এই নেতা দলীয় সংগঠনকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন। সময়ের স্রোতে বিচ্ছেদ এলেও, শেষমেশ ফের নিজের রাজনৈতিক ঘরেই ফিরে এসেছিলেন তিনি।
জন্মলগ্নের সৈনিক: তৃণমূল গঠনের নেপথ্য কারিগর
১৯৯৮ সালে যখন All India Trinamool Congress আত্মপ্রকাশ করে, তখন প্রথম সারির সংগঠক হিসেবে ছিলেন মুকুল রায়। নির্বাচন কমিশনে নতুন দল গঠনের আবেদনকারী নয় জন নেতার অন্যতম ছিলেন তিনি। তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বিকল্প রাজনীতির ভিত গড়ে তোলায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠনের অঙ্কে পারদর্শী ‘নম্বর টু’
দলীয় মহলে তাঁকে বলা হত সংগঠনের স্থপতি। জেলা থেকে বুথ—প্রতিটি স্তরের শক্তি-দুর্বলতার অঙ্ক ছিল তাঁর নখদর্পণে। ২০০৬ সালে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। পরে রাজ্যসভায় দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব সামলান। দিল্লির রাজনীতিতেও তৃণমূলের মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা
বাম জমানার শিল্পায়ন নীতির বিরুদ্ধে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম সংগঠক। ২০১১ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই থেকে জোট-অঙ্ক—সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর ছাপ। রাজনৈতিক কৌশলেই একাধিক বিরোধী নেতাকে তৃণমূলে টেনে আনার কৃতিত্বও অনেকেই তাঁর ঝুলিতে রাখেন।
বিচ্ছেদ ও নতুন অধ্যায়
২০১৭ সালে হঠাৎই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে তিনি যোগ দেন Bharatiya Janata Party-তে এবং কৃষ্ণনগর থেকে নির্বাচিত হন। এই পর্বে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জোর চর্চা হয়। তবে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি বলেই মনে করতেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ঘরে ফেরা: আবেগঘন প্রত্যাবর্তন
২০২১ সালে ব্যক্তিগত জীবনের আঘাতের পর ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়ে ঘরে ফেরার দিন উপস্থিত ছিলেন মমতাও। মতবিরোধ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলেও, মমতা নিজেই প্রকাশ্যে জানান—মুকুলের সঙ্গে কারও কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য Mukul Roy আর নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন Mamata Banerjee-র অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা। দল গঠন থেকে ক্ষমতায় আসা, তারপর অভিমান, বিচ্ছেদ এবং অবশেষে ‘ঘরে ফেরা’—সব মিলিয়ে ঘাত-প্রতিঘাতে ভরা এক রাজনৈতিক সফরের ইতি।











