সোমবার রাতে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার বোর্নো রাজ্যের রাজধানী মাইদুগুরিতে ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আত্মঘাতী হামলাকারীর সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার রাতের এই বিস্ফোরণগুলির পর এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। জরুরি পরিষেবাগুলি আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে মাইদুগুরি শহরের একাধিক স্থানে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণগুলি এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করে।
মাইদুগুরি শহর দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, কারণ এখানে সন্ত্রাসী সংগঠন বোকো হারাম সক্রিয় ছিল। ফলে যে কোনও বিস্ফোরণ বা হামলার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তৎপর হয়ে ওঠে।
বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তা বাহিনী আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে, যাতে হামলার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করা যায় এবং অন্য কোনও ঝুঁকি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা যায়।
ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির অপারেশন প্রধান সিরাজো আব্দুল্লাহির মতে, তিনটি প্রধান স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে মাইদুগুরি ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের প্রবেশদ্বার এবং দুটি ব্যস্ত স্থানীয় বাজার—পোস্ট অফিস মার্কেট ও মান্ডে মার্কেট।
![]()
এই বাজারগুলি এলাকার সবচেয়ে জনবহুল স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম, যেখানে রাতেও মানুষের আনাগোনা থাকে। ফলে বিস্ফোরণের পর বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়।
আব্দুল্লাহি জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় মৃত ও আহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা এখনও কঠিন।
ঘটনার পর উপস্থিত মানুষজনও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। প্রত্যক্ষদর্শী বাগোনি আলকালি জানান, তিনি একাধিক আহতকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছেন। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। বহু মানুষ আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে ছিলেন এবং চারদিকে বিশৃঙ্খলা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরা আহতদের অ্যাম্বুল্যান্স বা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছু মানুষের মৃত্যু ঘটনাস্থলেই হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। একটি সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, পোস্ট অফিস মার্কেট ও মান্ডে মার্কেট থেকে একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তাঁর কথায়, তাদের দল ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এবং বহু আহতকে হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেছে। বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ ছিল, যেখানে অনেকে তাদের স্বজনদের খুঁজছিলেন এবং অন্যরা আহতদের বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।
এই বিস্ফোরণের পর হামলার জন্য দায়ী কারা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সব দিক থেকে তদন্ত চালাচ্ছে। মাইদুগুরি ও বোর্নো রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে প্রভাবিত, এবং বোকো হারামের মতো সংগঠন অতীতে এখানে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত শেষ হলে স্পষ্ট হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বোর্নো রাজ্যের গভর্নর বাবাগানা উমারা জুলুম এই বিস্ফোরণের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা করা নিন্দনীয় এবং সরকার এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশও তিনি দিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথা বলেছেন।
নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী এর আগে জানিয়েছিল, সোমবার ভোরে মাইদুগুরির উপকণ্ঠে সন্দেহভাজন ইসলামি জঙ্গিদের একটি হামলা প্রতিহত করা হয়েছিল।
সেনাবাহিনীর মতে, নিরাপত্তা বাহিনী সময়মতো পদক্ষেপ নিয়ে হামলাকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শহরে হওয়া বিস্ফোরণ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।









