মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই একই মঞ্চে দেখা গেল দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদের। শুক্রবার বহরমপুরে পঞ্চায়েত দফতরের কাজের পর্যালোচনা বৈঠকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের পাশে ছিলেন এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান। যদিও তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হলেও, দুই সাংসদই পরে জানিয়ে দেন—তাঁরা বিজেপি বা এনডিএ-র অংশ নন।
আবাস যোজনা নিয়ে বড় বার্তা দিলীপের
বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলার পঞ্চায়েত দফতরের কাজ নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন পঞ্চায়েত দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ।আবাস যোজনার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের দাবি, আগের সরকারের সময়ে যথাযথ সমীক্ষা ছাড়াই তালিকা তৈরি হওয়ায় বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম সেখানে ঢুকে পড়েছিল। তাঁরবক্তব্য অনুযায়ী, এমন প্রায় ৭০ হাজার নাম চিহ্নিত হয়েছে, যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার জন বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।মন্ত্রী জানান, অযোগ্য সুবিধাভোগীদের নোটিস দিয়ে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে যোগ্য দরিদ্র মানুষ যাতে আবাস যোজনার সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
১০০ দিনের কাজ নিয়েও সরব মন্ত্রী
বৈঠকে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছিল।এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই রাস্তার কাজ হওয়ার অভিযোগের কথাও জানান তিনি। বেশ কিছু রাস্তার কাজের বিল পর্যালোচনার জন্য আটকে রাখা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। সেই কারণেই নির্মাণকারীদের টাকা পেতে দেরি হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য।
পুজোর আগেই রাস্তা মেরামতের আশ্বাস
মুর্শিদাবাদ জেলার ভাঙাচোরা রাস্তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দিলীপ ঘোষ জানান, ইতিমধ্যেই ১০০টি রাস্তার কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং বেশ কিছু জায়গায় কাজও শুরু হয়েছে।পুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। যদিও লাগাতার বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে রাস্তা মেরামতির প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যেই এসে গিয়েছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।
পঞ্চায়েতে কাজ না হলে বিডিওদের নির্দেশ
জেলার একাধিক পঞ্চায়েতে প্রধানরা নিয়মিত কাজ করছেন না—এমন অভিযোগও বৈঠকে উঠে আসে। কোথাও আবার দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে উন্নয়নমূলক কাজ আটকে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান দিলীপ ঘোষ।তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কাজে না পড়ে, সেদিকে নজর দিতে বিডিওদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানের বদলে অন্যকে বিল সইয়ের ক্ষমতা?
উন্নয়নের কাজ কোনওভাবেই আটকে রাখা যাবে না—এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিলীপ ঘোষ জানান, কোনও পঞ্চায়েতে প্রধানের কারণে কাজ থমকে গেলে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।চেক ও বিল সই করার ক্ষমতা প্রয়োজনে অন্য ব্যক্তিকে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। এর উদ্দেশ্য, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে যাতে উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ না থাকে।
একই মঞ্চে আবু তাহের ও খলিলুর
এই বৈঠকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল এনসিপিআই-এর দুই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমানের উপস্থিতি। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁদের দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়।তবে দুই সাংসদই তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁরা জানান, বিজেপি বা এনডিএ-র সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই।পঞ্চায়েত স্তরে রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত কাজ নিয়ে তাঁদের বক্তব্য, কাজ শেষ করার জন্য ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বৈঠকে যে সমস্ত কথা বলেছেন, সেগুলি বাস্তবে কার্যকর হলে তাঁরা খুশি হবেন বলেও জানান দুই সাংসদ।
রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা, তবে বার্তা স্পষ্ট
একই মঞ্চে উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হলেও আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমানের বক্তব্যে আপাতত তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি। বরং তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নই তাঁদের কাছে এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ।মুর্শিদাবাদের পঞ্চায়েত স্তরে রাস্তা, আবাসন এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত দফতরের পর্যালোচনা বৈঠকে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গেল এনসিপিআই-এর দুই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমানকে। তবে বৈঠকের পর দু’জনই স্পষ্ট করে জানালেন, তাঁরা বিজেপি বা এনডিএ-র সঙ্গে নেই। জেলার রাস্তা সংস্কার এবং পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়েও তাঁরা নিজেদের বক্তব্য জানান।










