মুর্শিদাবাদে মাছ চাষ ঘিরে বিতর্ক! নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, পাল্টা বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের

মুর্শিদাবাদের চন্দনপুর বিলে অবৈধ মাছ চাষ ও মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠল নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ তুললেন তিনি।

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। উস্কানিমূলক মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে শতাধিক বিঘার একটি বিলে অবৈধভাবে মাছ চাষ ও মাছ বিক্রির অভিযোগ। যদিও সাংবাদিক বৈঠক করে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন বিধায়ক। বরং পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

মুর্শিদাবাদে মাছ চাষ ঘিরে বিতর্ক! নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, পাল্টা বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের
বিলের লিজ নিয়ে শুরু নতুন বিতর্ক

মুর্শিদাবাদের চন্দনপুর বিলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক। অভিযোগ, একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে থাকা বিস্তীর্ণ জলাশয়ের লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সেখানে মাছ চাষ চালিয়ে যাচ্ছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ও তাঁর সহযোগীরা। শুধু মাছ চাষই নয়, সেই মাছ বাজারে বিক্রিও করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে কোটি টাকার মাছ ব্যবসার ইঙ্গিত

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ২৮০ বিঘা আয়তনের ওই বিল থেকে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার মাছ উৎপাদন ও বিক্রি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিলের দখল ছাড়া হয়নি। এমনকি বিল সংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মুর্শিদাবাদে মাছ চাষ ঘিরে বিতর্ক! নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, পাল্টা বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের
চুক্তির মেয়াদ নিয়েই দ্বন্দ্ব

অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জুলাই। এরপরও তিনি ওই জলাশয় ব্যবহার করে মাছ ধরার কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। তবে বিধায়কের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ২০৩২-৩৩ অর্থবর্ষ পর্যন্ত মাছ ধরার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে এবং সেই চুক্তি বাতিলের কোনও নোটিস তাঁকে কখনও দেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ বিধায়কের

সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, শক্তিপুর থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ভোরবেলায় চন্দনপুর বিলে গিয়ে তাঁর নিযুক্ত জেলেদের ধরা কয়েক লক্ষ টাকার মাছ বাজেয়াপ্ত করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, সেই মাছ পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে তিনি সম্পূর্ণ বেআইনি বলেও দাবি করেছেন।

মুর্শিদাবাদে মাছ চাষ ঘিরে বিতর্ক! নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, পাল্টা বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের
'মাছ চুরি করায় কর্মীকে সরিয়েছি'— দাবি হুমায়ুনের

বিধায়ক জানান, প্রথমদিকে নাজেম শেখ নামে এক ব্যক্তি তাঁর হয়ে মাছ চাষ ও মাছ ধরার কাজ দেখাশোনা করতেন। কিন্তু পরে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাছ চুরির অভিযোগ ওঠায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্যরাই পুরো প্রকল্পের তদারকি করছেন বলে দাবি করেন হুমায়ুন কবীর।

রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার আশঙ্কা

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে বিধায়কের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিল দখল ও মাছ বিক্রির অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ— দুই পক্ষের দাবি-প্রতিদাবিতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই বিতর্কের পরবর্তী মোড়।

মুর্শিদাবাদে মাছ চাষ ঘিরে বিতর্ক! নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, পাল্টা বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের
মুর্শিদাবাদের নওদায় একটি বেসরকারি সংস্থার লিজ নেওয়া বিলে বেআইনি ভাবে মাছ চাষ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিধায়কের দাবি, তাঁর বৈধ চুক্তি এখনও বলবৎ রয়েছে এবং প্রশাসনই অন্যায়ভাবে মাছ বাজেয়াপ্ত করেছে।

Leave a comment