বীরভূমের অন্যতম শক্তিপীঠ তারাপীঠ মন্দিরে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দায়িত্বে থাকা পুরনো কমিটি ভেঙে গঠিত হয়েছে নতুন পরিচালন কমিটি। নতুন কমিটির দাবি, পুরনো নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিধান থাকলেও তা দীর্ঘদিন মানা হয়নি। এবার স্বচ্ছতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একাধিক সংস্কারের পথে হাঁটছে নতুন কমিটি।
১৫ বছরের কমিটির অবসান, নতুন নেতৃত্বের সূচনা
প্রায় দেড় দশক ধরে পরিচালিত পুরনো কমিটির পরিবর্তে তারাপীঠ মন্দিরে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রবীণ সেবায়েতদের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সভাপতি হিসেবে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক হিসেবে পুলক চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন তারকনাথ চ্যাটার্জি (বড়) এবং আহ্বায়ক হয়েছেন তারক চ্যাটার্জি (ছোট)।
কেন ভাঙা হল পুরনো কমিটি?
নবনির্বাচিত সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রয়াত সেবায়েত শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে নিয়মে কমিটি গঠন করেছিলেন, তাতে প্রতি বছর বৈশাখ মাসে সকলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন সভাপতি ও অন্যান্য পদাধিকারী নির্বাচনের কথা ছিল। কিন্তু সেই নিয়ম কার্যকর না করে দীর্ঘ ১৫ বছর একই নেতৃত্ব বহাল ছিল। সেই কারণেই পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্দিরে দর্শন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
নতুন কমিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারাপীঠ মন্দিরে দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে মূলত দুটি লাইন—একটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এবং অন্যটি ভিআইপি দর্শনের জন্য। এছাড়া শুধুমাত্র সরকারি প্রোটোকলের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য পৃথক একটি ব্যবস্থা থাকবে। এর বাইরে অন্য কোনও বিশেষ লাইন রাখা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
গর্ভগৃহে আসছে নতুন পরিকল্পনা
ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে গর্ভগৃহের কাঠামোতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, গর্ভগৃহের মেঝে প্রায় এক ফুট নিচু করা হতে পারে, যাতে বাইরে দাঁড়িয়েই দর্শনার্থীরা মা তারার মুখ স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন। তবে দেবীমূর্তি আগের মতোই উঁচু স্থানে থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ ভক্তদের সরাসরি প্রতিমা স্পর্শ করে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা আর থাকবে না বলেও জানানো হয়েছে।
স্বচ্ছ পরিচালনাই নতুন কমিটির লক্ষ্য
নতুন সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, তীর্থক্ষেত্রগুলিকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েই নতুন কমিটি কাজ শুরু করেছে। দর্শনার্থীদের সুবিধা, নিরাপত্তা এবং মন্দির পরিচালনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাঁদের অগ্রাধিকার বলে দাবি করেন তিনি।
প্রাক্তন কমিটির সহযোগিতার আশ্বাস
যদিও দীর্ঘদিনের পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তবুও নবগঠিত কমিটিকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রাক্তন সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়। ফলে প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যেও মন্দিরের দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর তারাপীঠ মন্দিরের পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মন্দির পরিচালনা ও দর্শন ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে।










