বিজয়া দশমীতে সিঁদুরে রাঙা মুর্শিদাবাদ! ঢাকের তালে নাচে-গানে উমাকে বিদায়, সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা

বিজয়া দশমীতে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা। ঢাক-ঢোল, পালকিতে কলাবউ নিরঞ্জন ও নারীশক্তির উদযাপনের ছবি ও খবর পড়ুন।

দুর্গাপুজোর আনন্দের শেষে এবার উমাকে বিদায় জানানোর পালা। চারদিকে বিষাদের সুর, চোখে জল আর মনে আগামী বছরের অপেক্ষা। তারই মাঝে সিঁদুর খেলার লাল রঙে রঙিন হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ। দশমীর সকালে মহিলারা পরস্পরকে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে এবং নাচে-গানে মেতে উঠে উদযাপন করলেন বিজয়া দশমী। পাশাপাশি ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পালকিতে করে কলাবউ ও নবপত্রিকা নিরঞ্জনের আয়োজনও ছিল নজরকাড়া।

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরে রাঙা মুর্শিদাবাদ! ঢাকের তালে নাচে-গানে উমাকে বিদায়, সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা
সিঁদুর খেলায় রঙিন মুর্শিদাবাদের পুজো মণ্ডপ

বুধবার সকাল থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন দুর্গাপুজো মণ্ডপে শুরু হয় সিঁদুর খেলার আয়োজন। লাল পাড় সাদা শাড়িতে সেজে মহিলারা একে অপরের কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন। কোথাও হাসি-আনন্দ, কোথাও আবার মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর আবেগ—সব মিলিয়ে দশমীর সকাল হয়ে ওঠে আবেগঘন।একদিকে উৎসবের আনন্দ, অন্যদিকে উমাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানোর মনখারাপ। এই দুই অনুভূতির মেলবন্ধনেই মুর্শিদাবাদের মণ্ডপে মণ্ডপে পালিত হয় বিজয়া দশমী।

ঢাক-ঢোলের তালে পালকিতে কলাবউ নিরঞ্জন

সিঁদুর খেলার পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে আয়োজন করা হয় কলাবউ ও নবপত্রিকা নিরঞ্জনের। ঢাক-ঢোলের বাদ্যি এবং শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে পালকিতে করে কলাবউকে নিয়ে যাওয়া হয় বিসর্জনের উদ্দেশ্যে। ঐতিহ্য মেনে এই আয়োজন দশমীর উৎসবে যোগ করে অন্য মাত্রা।দুর্গাপুজোর শেষ দিনে রীতি মেনে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি চলে বিভিন্ন জায়গায়। উৎসবের আবহে ভক্তদের অংশগ্রহণ এবং ঢাকের শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরে রাঙা মুর্শিদাবাদ! ঢাকের তালে নাচে-গানে উমাকে বিদায়, সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা
সিঁদুর খেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শক্তি ও মঙ্গলকামনার বিশ্বাস

হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে লাল সিঁদুরকে শক্তি, ভালোবাসা ও শুভতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বিবাহিত মহিলারা স্বামীর মঙ্গলকামনায় সিঁথিতে সিঁদুর পরেন। বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলার মাধ্যমে সেই বিশ্বাস ও ঐতিহ্যই বিশেষভাবে প্রকাশ পায়।তবে সিঁদুর খেলার তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় রীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু মানুষের কাছে এটি নারীদের পারস্পরিক ভালোবাসা, বন্ধন এবং একে অপরের পাশে থাকার প্রতীকও।

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরে রাঙা মুর্শিদাবাদ! ঢাকের তালে নাচে-গানে উমাকে বিদায়, সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা
নারীশক্তির উদযাপনেও বিশেষ তাৎপর্য

মা দুর্গাকে শক্তির প্রতীক হিসেবে আরাধনা করা হয়। সেই শক্তির আরাধনার আবহেই সিঁদুর খেলা অনেকের কাছে নারীর আত্মবিশ্বাস, স্বাধীন সত্তা এবং আত্মশক্তির প্রকাশ। একে অপরকে লাল সিঁদুরে রাঙিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মহিলারা ভাগ করে নেন আনন্দ, আবেগ ও উৎসবের মুহূর্ত।মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন মণ্ডপে এদিনের আয়োজনেও উঠে আসে সেই নারীশক্তির উদযাপন। ধর্মীয় রীতি, সামাজিক বন্ধন এবং উৎসবের আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় দশমীর আবহে।

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরে রাঙা মুর্শিদাবাদ! ঢাকের তালে নাচে-গানে উমাকে বিদায়, সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা
বিজয়া দশমীর বিষাদমাখা আবহে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে পালিত হল সিঁদুর খেলা ও বিসর্জনের অনুষ্ঠান। বুধবার সকাল থেকেই লাল সিঁদুরে একে অপরকে রাঙিয়ে উৎসবে মাতেন মহিলারা। কোথাও ঢাক-ঢোলের তালে নাচ-গান, আবার কোথাও পালকিতে করে কলাবউ ও নবপত্রিকা নিয়ে যাওয়া হয় নিরঞ্জনের জন্য। মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি এই উৎসবে ধরা পড়ল নারীশক্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা।

Leave a comment