নদিয়া: সপ্তাহের শুরুতেই বড়সড় পরিবহণ সমস্যার মুখে নদিয়া জেলা। রাজ্য ও জাতীয় সড়কে নিয়ম না মেনে টোটো, অটো ও অন্যান্য ছোট যান চলাচলের অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেলেন জেলার বেসরকারি বাস কর্মীরা। সোমবার সকাল থেকেই প্রায় ৪০০-র বেশি বাস রাস্তায় না নামায় বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বিকল্প পরিবহণের জন্য টোটো-অটোর উপর নির্ভর করতে গিয়ে অনেককেই বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।
কেন বাস ধর্মঘট?
বাস কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য ও জাতীয় সড়কের বিভিন্ন বাস রুটে বিপুল সংখ্যায় টোটো ও অটো চলাচল করছে। তাদের দাবি, এই যানগুলির অনেকগুলিই নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলছে না।বাস কর্মীদের বক্তব্য, বাস কোনও নির্দিষ্ট স্টপে পৌঁছনোর আগেই টোটো ও অটো যাত্রী তুলে নিচ্ছে। ফলে বাসের যাত্রীসংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং আয়ও ক্রমশ কমছে।
খরচ উঠছে না, দাবি বাসকর্মীদের
আন্দোলনকারীদের দাবি, বর্তমানে বাস চালানোর ক্ষেত্রে ডিজেল, মবিল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু যাত্রী কমে যাওয়ায় সেই খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।তাদের অভিযোগ, সমস্ত খরচ মেটানোর পর চালক ও কন্ডাক্টরদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বাস পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন
বাস কর্মীদের প্রতিনিধিদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হয়েছে। পরিবহণ দফতর থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন, RTO এবং SDO-র কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।আন্দোলনকারী শেখ মনিরুজ্জামান ও মহাদেব সেনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
দাবি না মানা পর্যন্ত বাস চলবে না?
আন্দোলনকারীদের অবস্থান বেশ কড়া। তাঁদের দাবি, বাস রুটে অবৈধ টোটো ও অটোর চলাচল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি বাস পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে না।এর ফলে ধর্মঘট কতদিন চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা না হলে জেলার পরিবহণ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা।
কৃষ্ণনগর-নবদ্বীপ থেকে করিমপুর—ভোগান্তি সর্বত্র
সোমবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় সকাল থেকেই সমস্যায় পড়েন অফিসযাত্রী, পড়ুয়া, ব্যবসায়ী এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা।কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ এবং করিমপুরগামী বিভিন্ন রুটে বাস না চলায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পরিবহণের সাহায্য নেন।
বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ যাত্রীদের
বাস পরিষেবা বন্ধ থাকায় টোটো ও অটোই এখন অনেক যাত্রীর ভরসা। কিন্তু দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় এই ছোট যানগুলিতে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ।যাত্রীদের একাংশের দাবি, বাসের তুলনায় টোটো বা অটোতে একই দূরত্ব যেতে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। চিকিৎসা, অফিস কিংবা জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষজন সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।সুপর্ণা বিশ্বাস ও শরিফুল শেখের মতো যাত্রীদের অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাসের দেখা মিলছে না। পর্যাপ্ত সরকারি বাস না থাকায় তাঁদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
দ্রুত সমাধানের দাবি
বাস কর্মীদের আন্দোলনের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীরাও দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাস পরিষেবা বন্ধ থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন সাধারণ মানুষ।একদিকে বাস মালিক ও কর্মীদের অভিযোগ, অন্যদিকে যাত্রীদের দুর্ভোগ—দুই পক্ষের সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।
অবৈধ টোটো ও অটোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে নদিয়া জেলায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সোমবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই জেলার প্রায় ৪০০-র বেশি বেসরকারি বাস রাস্তায় না নামায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ থেকে করিমপুর—বিভিন্ন রুটে পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত ব্যাহত হয়েছে।












