বাজপেয়ীর জন্মদিনে পরিবারতন্ত্রে তীব্র আক্রমণ মোদির, ‘একটি পরিবার নয়—সব নেতাকেই সম্মান দেয় বিজেপি’

বাজপেয়ীর জন্মদিনে পরিবারতন্ত্রে তীব্র আক্রমণ মোদির, ‘একটি পরিবার নয়—সব নেতাকেই সম্মান দেয় বিজেপি’

২৫ ডিসেম্বর, ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মজয়ন্তীতে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে এক বিশাল জাতীয় স্মারক উদ্বোধনের মঞ্চ থেকেই কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারকে লক্ষ্য করে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির সমালোচনা এবং বিজেপির ‘সবার প্রতি সম্মান’ নীতির দাবি।

বাজপেয়ীর জন্মজয়ন্তীতে জাতীয় স্মারক উদ্বোধন

লখনউয়ের বসন্তকুঞ্জ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী মোদি উদ্বোধন করলেন প্রায় ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল’। ভারতের জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের তিন দিকপাল—ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ও অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্মৃতিতে তৈরি হয়েছে এই চত্বর।

পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে মোদির কটাক্ষ

উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের উন্নয়নের কৃতিত্ব একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার রাজনীতি থেকে ভারত অনেক আগেই বেরিয়ে এসেছে।” নাম না করেই গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে তাঁর দাবি, বিজেপি সেই রাজনীতির বিকল্প তৈরি করেছে।

কংগ্রেস আমলে অবহেলার অভিযোগ

মোদি বলেন, কংগ্রেসের শাসনকালে বিজেপির বহু প্রবীণ নেতাকে অসম্মান করা হয়েছিল। তাঁর মতে, বিজেপি ক্ষমতায় এসে সেই মানসিকতার অবসান ঘটিয়েছে এবং দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেই ইতিহাসে যথাযথ স্থান দিয়েছে।

প্রণব মুখার্জি ও নরসিমহা রাওয়ের প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমহা রাও, সংবিধান প্রণেতা ডঃ বি আর আম্বেদকর এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতাদের বর্তমান সরকার সম্মান জানিয়েছে।

বাজপেয়ী ও মালব্যের অবদান স্মরণ

মোদি বলেন, “ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ী ও ভারতরত্ন মদন মোহন মালব্য ভারতের ঐক্য, পরিচয় ও গর্বের প্রতীক।” তাঁদের আদর্শ দেশ গঠনে আজও প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

৬৫ ফুট ব্রোঞ্জ মূর্তি প্রধান আকর্ষণ

‘রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল’-এর প্রধান আকর্ষণ ৬৫ ফুট উচ্চতার তিনটি বিশাল ব্রোঞ্জ মূর্তি। বিশ্বখ্যাত ভাস্কর রাম সুতার ও মন্টু রাম আর্ট ক্রিয়েশন এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। রাতের আলো ও প্রোজেকশন ম্যাপিংয়ে মূর্তিগুলি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মিলনস্থল

চত্বরে থাকা জাদুঘরে ম্যুরাল আর্টের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ‘ভারতমাতা’-র মূর্তি, যোগ ও ধ্যান কেন্দ্র এবং প্রায় ৩০০০ আসনবিশিষ্ট একটি অ্যাম্ফিথিয়েটার।

অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মজয়ন্তীতে লখনউয়ে ‘রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল’ উদ্বোধন করে কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি, বিজেপি পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সব কৃতী নেতাকেই সম্মান জানায়।

Leave a comment