পশ্চিমবঙ্গে মোদির তিন জনসভা, অসমে ভোটের আগে কংগ্রেস প্রার্থীর দলত্যাগ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে তিনটি নির্বাচনী জনসভা করবেন যেখানে বিজেপি নিজেদের ভিত্তি শক্তিশালী করার কৌশল নিচ্ছে। একই সময়ে অসমে ভোটের আগে কংগ্রেস প্রার্থী সুরেন দাইমারির দলত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও তার নাম ইভিএমে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে তিনটি নির্বাচনী জনসভা করবেন, যার ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পূর্বে যেখানে ভালো ফল করেছে সেই এলাকাগুলিতে নিজেদের ভিত্তি আরও মজবুত করার ওপর জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি দলটি এমন এলাকাগুলিতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যেগুলি তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

কলকাতায় নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে তিনটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। বিজেপি তাদের শক্তিশালী এলাকায় প্রভাব ধরে রাখার পাশাপাশি টিএমসি-প্রভাবিত এলাকায় সম্প্রসারণের কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রথম জনসভাটি সকালবেলা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, যা শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব বলয়ে পড়ে বলে ধরা হয়। এরপর তিনি আসানসোল এবং তারপর বীরভূম জেলার সিউড়িতে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপি আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য ফল করেছে, অন্যদিকে বীরভূম দীর্ঘদিন ধরে টিএমসি-র প্রভাবাধীন এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জনসভা সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া টাউনশিপে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিনি দুপুরে আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ড অবস্থিত আউটডোর স্টেডিয়ামে বক্তব্য রাখবেন। তৃতীয় জনসভাটি বীরভূম জেলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির এই প্রচার কর্মসূচি কৌশলগতভাবে নির্ধারিত হয়েছে। দলটি তাদের বিদ্যমান ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

পশ্চিমবঙ্গে মোদির তিন জনসভা, অসমে ভোটের আগে কংগ্রেস প্রার্থীর দলত্যাগ

অন্যদিকে, অসমে ভোটগ্রহণের একদিন আগে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস একটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। উদালগুড়ি আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী সুরেন দাইমারি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা এখনও দাইমারির আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পায়নি।

নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তার মতে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে, ফলে সুরেন দাইমারির নাম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) থাকবে। এর অর্থ, তিনি দল থেকে দূরে সরে গেলেও ভোটাররা এখনও তাকে ভোট দিতে পারবেন।

এই ঘটনাক্রম অসমের নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে কংগ্রেসের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি ভোটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে চলমান এই ঘটনাগুলি জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রচার জোরদার করছে, অন্যদিকে অসমে কংগ্রেস অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির জনসভাগুলি রাজ্য পর্যায়ের পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও বার্তা বহন করে। তার বক্তব্যে উন্নয়ন, জাতীয়তাবাদ এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলির সমন্বয় দেখা যায়, যা ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখে।

 

Leave a comment