সপ্তাহান্ত মানেই পার্টি, বন্ধু আর আনন্দ। তার সঙ্গে অনেকেরই জুড়ে যায় অ্যালকোহল। কিন্তু কখন সেই আনন্দ ‘বিপদে’ পরিণত হয়, তা বুঝতে না পারলেই সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গেলেই শরীরে শুরু হয় বিষক্রিয়া—যার প্রভাব হতে পারে তাৎক্ষণিক ও মারাত্মক।
কতটা খেলেই ‘বিপজ্জনক’ ধরা হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে,
পুরুষদের ক্ষেত্রে: ২ ঘণ্টার মধ্যে ৫ বা তার বেশি পেগ
মহিলাদের ক্ষেত্রে: ২ ঘণ্টার মধ্যে ৪ বা তার বেশি পেগ
এই পরিমাণকে ‘বিঞ্জ ড্রিংকিং’ বলা হয়, যা শরীরের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে এবং হুঁশ হারানোর ঝুঁকি বাড়ায়।
শরীরে কী হয় বেশি মদ খেলেই?
অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরে প্রবেশ করলে তৈরি হয় অ্যাসিটালডিহাইড, যা অত্যন্ত বিষাক্ত। এটি লিভারে তৈরি হয়ে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। এর ফলে দেখা দেয়—
মাথাব্যথা
বমি
ঘাম
মাথা ঘোরা
দ্রুত হৃদস্পন্দন
অর্থাৎ, শরীর তখন সেই অ্যালকোহল সামলাতে হিমশিম খায়।
মদের সঙ্গে ধূমপান? ঝুঁকি ২১ গুণ বেশি!
অনেকেই মদের সঙ্গে সিগারেট বা ভেপিং করেন। কিন্তু এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল ও ধূমপান একসঙ্গে করলে শরীরের ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়—প্রায় ২১ গুণ পর্যন্ত। এতে লিভার ও ফুসফুস দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খালি পেটে মদ? বড় ভুল!
খালি পেটে মদ্যপান করলে অ্যালকোহল দ্রুত রক্তে মিশে যায়। ফলে খুব তাড়াতাড়ি নেশা ধরে এবং শরীরের ক্ষতি বাড়ে। তাই মদ্যপানের আগে বা সঙ্গে কিছু খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিভিন্ন পানীয় মিশিয়ে খেলে কেন সমস্যা?
অনেকেই ভাবেন, বিভিন্ন ধরনের মদ মেশানোর জন্যই হ্যাংওভার হয়। আসলে সমস্যা হল—এতে আপনি কতটা অ্যালকোহল খাচ্ছেন, তা বুঝতে পারেন না। ফলে অজান্তেই অতিরিক্ত পান হয়ে যায়, যা পরের দিন মারাত্মক হ্যাংওভার ডেকে আনে।
সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
নিজের সীমা জানুন
ধীরে ধীরে পান করুন
মাঝে জল পান করুন
ধূমপান বা ভেপিং এড়িয়ে চলুন
মনে রাখবেন, পার্টি আনন্দের জন্য—স্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য নয়।
পার্টিতে মদ্যপান অনেকের কাছেই স্বাভাবিক অভ্যাস হলেও এর সীমা জানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি খেলেই শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে শুরু করে—পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সীমা আলাদা।













