শিলিগুড়ি: দেখতে আর পাঁচজন সাধারণ ট্রেনযাত্রীর মতোই। কাঁধে একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে সরাইঘাট এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরায় উঠেছিলেন এক যুবক। কিন্তু নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পুলিশি তল্লাশির সময় তাঁর গতিবিধিতে সন্দেহ হয় GRP-র। জিজ্ঞাসাবাদের পর ব্যাগ খুলতেই তদন্তকারীদের সামনে আসে একের পর এক বান্ডিল পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। বিপুল পরিমাণ বাতিল নোট উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
গোপন খবর পেয়ে স্টেশনে বাড়ানো হয় নজরদারি
শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে কিছু তথ্য পাওয়ার পর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নজরদারি জোরদার করা হয়। শিলিগুড়ি GRP-র SOG এবং NJP GRP-র সাদা পোশাকের পুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নামে।ট্রেন ও স্টেশন চত্বরে সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে ডাউন সরাইঘাট এক্সপ্রেস ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছয়।
সাধারণ কামরাতেই পুলিশের নজরে যুবক
ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢোকার পর সাধারণ কামরায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। সেখানেই এক যুবকের আচরণ তদন্তকারীদের নজরে আসে।সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, কথাবার্তায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাকপ্যাকটি খুলে দেখার সিদ্ধান্ত নেন তদন্তকারীরা।
ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এল পুরনো নোটের বান্ডিল
ব্যাগ খুলতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের একাধিক বান্ডিল।উল্লেখ্য, এই ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বর্তমানে বাতিল। ফলে এত বিপুল পরিমাণ বাতিল নোট ওই যুবকের কাছে এল কীভাবে, তা নিয়েই তৈরি হয় একাধিক প্রশ্ন।নোট উদ্ধারের পরই ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
কে এই সন্তোষ কুমার?
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া যুবকের নাম সন্তোষ কুমার। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, তাঁর আদি বাড়ি বিহারের মতিহারীতে। তবে গত প্রায় সাত বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে অসমের জালুকবাড়ি এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি।তদন্তে তাঁর যাতায়াত এবং ওই বিপুল পরিমাণ বাতিল নোটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুয়াহাটি থেকেই কি মিলেছিল নোট?
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীদের হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গুয়াহাটি থেকেই ওই ট্রেনে উঠেছিলেন সন্তোষ।তদন্তকারীদের দাবি, গুয়াহাটিতেই তাঁর হাতে নোটের বান্ডিলগুলি তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই নোট নিয়ে অন্য কোনও জায়গায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনে যাত্রা শুরু করেন তিনি।তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে—কার কাছ থেকে ওই বাতিল নোট পেয়েছিলেন সন্তোষ এবং কোথায় সেগুলি নিয়ে যাচ্ছিলেন?
তদন্তের নজর এখন গুয়াহাটির দিকে
শনিবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাঁর হেফাজত চেয়েছে পুলিশ।উদ্ধার হওয়া নোটের উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি এর পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।বিশেষ করে গুয়াহাটি থেকে নোটগুলি কীভাবে সন্তোষের হাতে এল, কে তা দিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় সেগুলি পৌঁছনোর কথা ছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন গুয়াহাটিকে ঘিরে।
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে সরাইঘাট এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরা থেকে বিপুল পরিমাণ বাতিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শিলিগুড়ি GRP-র SOG এবং NJP GRP-র সাদা পোশাকের পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে একাধিক বান্ডিল পুরনো নোট। ঘটনায় সন্তোষ কুমার নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।











