North 24 Pargana: বিনামূল্যে সোমনাথ দর্শনের সুযোগ! সরকারি উদ্যোগে তীর্থযাত্রায় আপ্লুত প্রবীণরা, বললেন ‘ভাবতেই পারিনি’

সরকারি উদ্যোগে প্রায় ১১০০ জন তীর্থযাত্রী বাতানুকূল ট্রেনে সোমনাথের উদ্দেশে রওনা দিলেন। দীর্ঘদিনের অপূর্ণ তীর্থযাত্রার ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত প্রবীণরা।

বয়স হয়েছে, তীর্থে যাওয়ার ইচ্ছাও ছিল বহুদিনের। কিন্তু সংসারের দায়িত্ব, কাজকর্ম কিংবা আর্থিক সামর্থ্যের কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। এবার সরকারি উদ্যোগে সোমনাথ দর্শনের সুযোগ পেয়ে সেই অপূর্ণ ইচ্ছাই পূরণ হতে চলেছে বহু মানুষের। কলকাতা স্টেশন থেকে বাতানুকূল ট্রেনে প্রায় ১১০০ জন তীর্থযাত্রী সোমনাথের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। যাত্রাপথে তাঁদের অনেকের মুখেই উঠে এসেছে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার কথা।

প্রায় ১১০০ জন তীর্থযাত্রী রওনা দিলেন সোমনাথের পথে

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের নিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে সোমনাথের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের মধ্যে প্রবীণ-প্রবীণার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা অর্চনা চক্রবর্তী জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে তীর্থে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সংসার ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে এতদিন তা সম্ভব হয়নি। সরকারি উদ্যোগে এই সুযোগ পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত খুশি।তাঁর মতে, এই বয়সে এমনভাবে তীর্থযাত্রার সুযোগ করে দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে পরিবারের সন্তানের মতো মনে হয়েছে।

‘সত্যিই সুযোগ পাব, ভাবিনি’

হাওড়ার ইছাপুরের বাসিন্দা বাব্বান পাণ্ডে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এই তীর্থযাত্রার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর সংশয় ছিল।তিনি জানান, ভাগ্যে থাকলে হয়তো সুযোগ মিলবে—এমনটাই ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগে সেই সুযোগ বাস্তবে পাওয়ায় তিনি আনন্দিত।

পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই তীর্থযাত্রায়

হাওড়ার বাসিন্দা গোপাল আদক শ্বশুর-শাশুড়ি-সহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই যাত্রায় যোগ দিয়েছেন। আগে পরিবারের তরফে উত্তরাখণ্ড যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সোমনাথ দর্শনের এই সুযোগ পাওয়ার পর সেই পরিকল্পনা বদলে ফেলেন তাঁরা।অন্যদিকে, হাওড়ার কদমতলার বাসিন্দা সন্ধ্যা রানী ঘোষ যাত্রাপথের পরিষেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খাবার থেকে শুরু করে ট্রেনের পরিষেবা—সবকিছুই ভালোভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের যত্ন নেওয়া হচ্ছে।

‘সাধারণ মানুষও তীর্থে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন’

শ্যামপুকুরের বাসিন্দা মমতা মিশ্রের মতে, এই ধরনের উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের তীর্থযাত্রার সুযোগ বাড়ছে। তাঁর কথায়, মানুষের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চাহিদার কথাও এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে।নদিয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা রঞ্জিত দেব বিশ্বাসও এই সুযোগকে তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ বলে জানিয়েছেন। জীবনে এমন সুযোগ পাবেন বলে ভাবেননি বলেও জানান তিনি।

কোচবিহার থেকেও যোগ দিয়েছেন তীর্থযাত্রীরা

সোমনাথ যাত্রায় শুধু কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকেও তীর্থযাত্রীরা অংশ নিয়েছেন। জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলা থেকে ৩২ জন এই যাত্রায় যোগ দিয়েছেন।কোচবিহারের বাসিন্দা ডোরা ভট্টাচার্য এই আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও এমন তীর্থযাত্রার আয়োজন চালু রাখার আশা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য এই ধরনের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।অন্য এক তীর্থযাত্রী ইতিকা দত্ত জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের জন্য তিনি কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে পুজোও দিয়েছেন।

প্রবীণদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছাপূরণ

বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকেরই দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে। কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা, যাতায়াতের খরচ এবং পরিবারের নানা দায়িত্বের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় না।সরকারি উদ্যোগে সোমনাথ ভ্রমণের এই আয়োজন সেই জায়গায় বহু মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাতানুকূল ট্রেনে একসঙ্গে যাত্রা এবং বিভিন্ন পরিষেবার ব্যবস্থা থাকায় তীর্থযাত্রীদের একাংশ স্বস্তির কথাও জানিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিনামূল্যে সোমনাথ তীর্থযাত্রায় অংশ নিলেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রায় ১১০০ জন তীর্থযাত্রী। কলকাতা স্টেশন থেকে বাতানুকূল ট্রেনে শুরু হয়েছে এই যাত্রা। দীর্ঘদিনের তীর্থে যাওয়ার ইচ্ছা আর্থিক ও পারিবারিক কারণে পূরণ করতে না পারা বহু প্রবীণ এই সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

Leave a comment