রাজস্থানের বাঁসওয়াড়া জেলায় বুধবার সকালে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বহনকারী একটি ভ্যান রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্কুল ভ্যানটি সকালে শিশুদের নিয়ে সেন্ট পল স্কুলে যাচ্ছিল। বাঁসওয়াড়ার দাহোদ সড়কে পৌঁছানোর পর ভ্যানটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনাটি স্কুলে পৌঁছানোর কিছু দূর আগে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন শিশু ভ্যানের ভেতরে আটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান থেকে শিশুদের বের করে আনেন এবং অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন আহতকে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
সব আহতকে দ্রুত বাঁসওয়াড়ার এমজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা গুরুতর আহত শিশুদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন। এক শিশুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। তাকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকেরা সিপিআরসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা চালালেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্য আহতদের চিকিৎসা হাসপাতালে চলমান রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দুজন শিশুর অবস্থা এখনও গুরুতর এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ভ্যানে প্রায় ১৫ জন শিশু ছিল। তারা নিয়মিতভাবে স্কুলে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অভিভাবকেরা হাসপাতালে পৌঁছান। হাসপাতাল চত্বরে স্বজন ও পরিচিতদের ভিড় জমে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান ও ট্রাক পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গতি এবং চালকের সম্ভাব্য অবহেলাকে দুর্ঘটনার একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে।
স্থানীয় প্রশাসন আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ দুর্ঘটনার সব দিক তদন্ত করছে। কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর কোনো স্তরে অবহেলার প্রমাণ মিললে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রশাসনের অগ্রাধিকার আহতদের চিকিৎসা, স্বজনদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ।










