ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ১২০ রানে অলআউট পাকিস্তান, ৯০ রানের জয় স্বাগতিকদের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তান ১২০ রানে অলআউট হয়। স্বাগতিকরা ৯০ রানে ম্যাচ জিতে নেয়। বাবর আজম অপরাজিত ৫৮ রান করেন, মোহাম্মদ আব্বাস পাঁচ উইকেট নেন এবং জয়ডেন সিলসও পাঁচ উইকেট শিকার করেন।

পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয়ের শক্ত অবস্থানে থেকেও ৯০ রানে পরাজিত হয়েছে। ২১১ রানের তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের পুরো দল মাত্র ১২০ রানে অলআউট হয়ে যায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে পাকিস্তান এমন এক পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত ছিল। ২১১ রানের তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তান মাত্র ১২০ রানে গুটিয়ে যায় এবং স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯০ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয়। এই জয়ের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সংগ্রাম ও লড়াকু মানসিকতারও উদাহরণ তুলে ধরে।

ম্যাচের চতুর্থ দিন পর্যন্ত পাকিস্তান শক্ত অবস্থানে ছিল। তাদের বোলাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কম রানে আটকে দেয় এবং দলটি সহজেই লক্ষ্য অর্জন করবে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে শেষ ইনিংসে ব্যাটিং পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় জয় হাতছাড়া হয়ে যায়।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩১১ রান করে। শুরুতে উইকেট হারালেও তাদের ব্যাটাররা কার্যকর জুটি গড়ে পাকিস্তানের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানে অলআউট হয়। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯ রানের লিড পায় এবং ম্যাচ দ্বিতীয় ইনিংস পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় থাকে।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের বোলাররা কার্যকর বোলিং করেন। অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস পাঁচটি উইকেট নেন। এছাড়া খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলি দুটি করে উইকেট নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রানে অলআউট হয়। এরপর পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ২১১ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। টেস্ট ক্রিকেটের হিসেবে এই লক্ষ্য চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব বলে ধরা হচ্ছিল না।

২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটাই ছিল হতাশাজনক। দুই ওপেনার আজান আওয়েস ও ইমাম-উল-হক তিন রান করে আউট হন। এরপর তিন নম্বরে নেমে বাবর আজম এক প্রান্ত ধরে রাখার চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে। অধিনায়ক শান মাসুদ তিন রান করেন, সালমান আলি আগা কোনো রান না করেই আউট হন এবং উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান করেন ১১ রান।

মিডল অর্ডারের ব্যাটাররাও দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন। আমির জামাল শূন্য রানে আউট হন এবং আলি উসমান করেন মাত্র দুই রান। নিয়মিত উইকেট পড়ায় পাকিস্তানের রান তোলার গতি ব্যাহত হয় এবং দলটি আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

দলের অন্য ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও বাবর আজম ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে অপরাজিত ৫৮ রান করেন। তবে অন্য প্রান্ত থেকে তিনি পর্যাপ্ত সমর্থন পাননি। পাকিস্তানের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি গড়ে ওঠে শেষ উইকেটে। বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাস দশম উইকেটে ৪৯ রান যোগ করেন। এতে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমলেও দলকে জয় এনে দেওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পেসার জয়ডেন সিলস। তিনি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা টিকতে পারেননি। ৪১তম ওভারে তিনি মোহাম্মদ আব্বাসকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করেন এবং নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন। এর মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯০ রানের জয় নিশ্চিত করে।

 

Leave a comment