পাটনা শহরে আবাস বোর্ডের সম্পত্তিতে অবৈধ দখলের ঘটনা ক্রমশ গুরুতর রূপ নিচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৭৫০টিরও বেশি ফ্ল্যাটে অবৈধ দখল থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিহার রাজ্য আবাস বোর্ড অবৈধ দখলদারদের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে।
আবাস বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, যেসব ফ্ল্যাটে দখল রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বহু ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা বসবাস করছেন, আবার কিছু ফ্ল্যাট কখনও বরাদ্দই দেওয়া হয়নি। তবুও এসব ফ্ল্যাটে বছরের পর বছর ধরে লোকজন বসবাস করে আসছেন, যার ফলে বোর্ডের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, একাধিক আবাসিক প্রকল্পে ফ্ল্যাট ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ দখলদাররা ফ্ল্যাটে কাঠামোগত পরিবর্তনও করেছেন, যার কারণে ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আবাস বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যারা ফ্ল্যাট খালি করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, এফআইআর দায়ের এবং পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় দখলমুক্ত করার পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ দখলের কারণে প্রকৃত প্রয়োজনীয় ব্যক্তিরা আবাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবাস বোর্ডের প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বাসস্থান সরবরাহ করা, তবে অবৈধ দখলের কারণে এই লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে।
পাটনার কঙ্কড়বাগ, রাজেন্দ্র নগর, লোহরিয়া নগর, বেইলি রোডসহ অন্যান্য এলাকায় আবাস বোর্ডের একাধিক প্রকল্পে অবৈধ দখলের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বোর্ড ইতিমধ্যে সব সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের তালিকা প্রস্তুত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আবাস বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শেষ সুযোগ। সতর্কতার পর আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। বোর্ডের লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব সব অবৈধ দখল অপসারণ করে ফ্ল্যাটগুলো বৈধ বরাদ্দপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেওয়া।
সামগ্রিকভাবে, পাটনায় আবাস বোর্ড অবৈধ দখল নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট খালি না হলে আগামী দিনে বড় পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে।












