বলিউডে যেখানে সম্পর্ক ভেঙে যায় আলো-ছায়ার খেলায়, সেখানে রাজকুমার রাও ও পত্রলেখা প্রমাণ করেছেন—ভালবাসা মানে শুধু গ্ল্যামার নয়, পাশে থাকা। স্ট্রাগলের দিন থেকে সাফল্যের শিখর—১১ বছরের প্রেম, বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসের পথ পেরিয়ে আজ তাঁরা সুখী পরিবার।
প্রথম দেখা, ভাগ্যের নীরব ইশারা
রাজকুমার রাও ও পত্রলেখার প্রথম আলাপ ‘ইয়ে আশিকি’ নামের একটি মিউজিক ভিডিওর শ্যুটিং সেটে। পরে চলচ্চিত্র ও মডেলিং ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত বন্ধুদের মাধ্যমেও যোগাযোগ বাড়ে। একইরকম মানসিকতা ও অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ধীরে ধীরে তাঁদের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
২০১০-এর সেই অনুভব, যা বদলে দিল ভবিষ্যৎ
২০১০ সালে একটি বিজ্ঞাপনে পত্রলেখাকে দেখে রাজকুমার রাও নাকি নিজেকে বলেছিলেন, “আমি একদিন ওকেই বিয়ে করব।” অন্যদিকে, পত্রলেখা তখন রাজকুমারকে দেখেছিলেন ‘লাভ সেক্স অউর ধোঁকা’ ছবিতে—একজন সিরিয়াস অভিনেতা হিসেবেই। প্রেমের ইঙ্গিত তখনও দু’জনের অজানা।
প্রেমের ভিত ছিল বন্ধুত্ব ও সম্মান
২০১০ সাল থেকেই শুরু হয় তাঁদের সম্পর্ক। গোপন রেখেই তাঁরা এগিয়েছেন সামনে। পত্রলেখা একাধিকবার বলেছেন, তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব। একসঙ্গে অডিশন দেওয়া, ব্যর্থতার পর গাড়ির পিছনের সিটে বসে একে অপরকে সাহস জোগানো—সবকিছুতেই তাঁরা ছিলেন পরস্পরের সবচেয়ে বড় চিয়ারলিডার।
১১ বছরের প্রেমের পর সাতপাকে বাঁধা
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় একসঙ্গে থাকার পর ২০২১ সালের নভেম্বরে চণ্ডীগড়ে ধুমধাম করে বিয়ে সারেন রাজকুমার ও পত্রলেখা। বিয়ের দিনে পত্রলেখার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে রাজকুমারের প্রস্তাব আজও বলিউডের অন্যতম আবেগী মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয়।
ভালবাসার নতুন অধ্যায়—পরিবারে এল কন্যাসন্তান
২০২৫ সালের জুলাই মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবা-মা হওয়ার সুখবর জানান এই তারকা দম্পতি। এরপর ১৫ নভেম্বর ২০২৫-এ পত্রলেখা জন্ম দেন এক কন্যাসন্তানের। নম্রতা ও আনন্দের সঙ্গে এই খবর ভাগ করে নেন তাঁরা, শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসে তাঁদের ইনবক্স।
একসঙ্গে স্ট্রাগল, অডিশন, প্রত্যাখ্যান আর স্বপ্ন—১১ বছরের দীর্ঘ প্রেমের পর ২০২১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাজকুমার রাও ও পত্রলেখা। ২০২৫ সালে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে তাঁদের প্রেমের গল্প পেল নতুন অধ্যায়।













