কলমের প্রতি ভালোবাসা কখনও পেশার গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। কর্মজীবনে ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলালেও অবসরে শব্দের জগতে নিজেকে গড়ে তুলেছেন মালদহের বাসিন্দা অশোক কুমার হালদার। দীর্ঘদিনের সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাঁর হাতে উঠল দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী।
রেলের চাকরির পাশাপাশি চলেছে সাহিত্যচর্চা
ইংরেজবাজারের বিধানপল্লীর বাসিন্দা ৬৬ বছরের অশোক কুমার হালদার ভারতীয় রেলের গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত সময় বের করে লিখেছেন গল্প, কবিতা ও সমাজভিত্তিক নানা প্রবন্ধ। ছয় বছর আগে অবসর নেওয়ার পর সাহিত্যই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান সাধনা।
১৩টি বইয়ে ফুটে উঠেছে তাঁর চিন্তাধারা
দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে অশোক কুমার হালদার ইতিমধ্যেই ১৩টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘Search Out Truth in the Light of Knowledge’ পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়। এছাড়াও ‘The Radical Change of Human Society and with Its Scientific Observation’ গ্রন্থটি সমাজ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তার জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত।
রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী গ্রহণ
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘Civil Investiture Ceremony-II’-এ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন অশোক কুমার হালদার। মঞ্চে ওঠার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে প্রণাম জানান তিনি। ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কারে দেশের ১৩১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন সম্মানিত হন, তাঁদের অন্যতম অশোক কুমার হালদার।
সম্মান পেয়ে কী বললেন অশোক কুমার হালদার?
জাতীয় সম্মান পাওয়ার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, "কাজের ফাঁকে লেখালেখি ছিল আমার নেশা। সেই নেশা একদিন আমাকে এই সম্মান এনে দেবে, কখনও ভাবিনি। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।"
গর্বিত পরিবার, উচ্ছ্বসিত মালদহ
অশোক কুমার হালদারের ছেলে কিংকর হালদার জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবাকে নিয়মিত লেখালেখি করতে দেখেছেন। তাঁর কথায়, এই সম্মান শুধু তাঁদের পরিবারের নয়, গোটা মালদহ জেলার গর্ব। জেলার সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যেও এই সাফল্য ঘিরে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় রেলের গার্ড হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু চাকরির ব্যস্ততার মাঝেও ছাড়েননি লেখালেখি। অবসরের পর সেই সাহিত্যচর্চাই এনে দিল দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী। ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কারে সম্মানিত হয়ে মালদহের গর্ব বাড়ালেন সাহিত্যিক অশোক কুমার হালদার।











