আইএমএফ ঋণ পেতে পিআইএ বিক্রির পথে পাকিস্তান, কেনায় আগ্রহ সেনা ফাউজি ফাউন্ডেশনের

ভয়াবহ ঋণ সংকটে পাকিস্তান পিআইএ বিক্রির পথে। চারটি সংস্থা আগ্রহী, যার মধ্যে সেনা নিয়ন্ত্রিত ফৌজি ফাউন্ডেশনও রয়েছে। পিআইএ কি তবে সেনার হাতে যাবে?

পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংকট: পাকিস্তানে দীর্ঘদিনের ঋণ ও আর্থিক অস্থিরতার জেরে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। ইসলামাবাদ আইএমএফ থেকে ঋণ পেতে কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বলে খবর। ইতিমধ্যে চারটি সংস্থা পিআইএ কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেনা নিয়ন্ত্রিত ফৌজি ফাউন্ডেশনও। ফলে এয়ারলাইন্সটি কি শেষমেশ সেনার নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে—এ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আইএমএফ ঋণ পেতে পিআইএ বিক্রির পথে পাকিস্তান, কেনায় আগ্রহ সেনা ফাউজি ফাউন্ডেশনের

পাকিস্তানের তীব্র আর্থিক সঙ্কট ও আইএমএফ শর্ত

পাকিস্তান গত কয়েক বছর ধরে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার কমে যাওয়া, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণের বোঝা দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ-এর ঋণই পাকিস্তানের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।আইএমএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে লাভজনক করতে হবে বা বেসরকারি হাতে তুলে দিতে হবে। সেই শর্ত পূরণ করতেই পিআইএ বিক্রির পথে হাঁটছে পাকিস্তান সরকার।

বিক্রির সম্ভাবনা ও ক্রেতা সংস্থার আগ্রহ

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স কেনার জন্য মোট চারটি সংস্থা আগ্রহ দেখিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়—এই চারটির মধ্যে একটি হল পাকিস্তানের সেনা নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ফৌজি ফাউন্ডেশন, যারা ইতিমধ্যেই বহু লাভজনক শিল্প ও পরিষেবা খাতে কার্যক্রম চালায়।

আইএমএফ ঋণ পেতে পিআইএ বিক্রির পথে পাকিস্তান, কেনায় আগ্রহ সেনা ফাউজি ফাউন্ডেশনের

পিআইএ কি সেনার অধীনে চলে যাবে?

ফৌজি ফাউন্ডেশনের আগ্রহ সামনে আসার পর থেকেই পাকিস্তানে নতুন বিতর্ক জোরদার হয়েছে। দেশে সেনার প্রভাব ইতিমধ্যেই প্রবল—রাজনীতি থেকে অর্থনীতি, বহু ক্ষেত্রে তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।পিআইএ যদি সেনার অধীনে চলে যায়, তবে রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহণ পরিষেবায় বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও কমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারের নীরব অবস্থান

ইসলামাবাদ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, ঋণ সংকট কাটাতে পিআইএ বিক্রি অনিবার্য হয়েছে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক মহল। পাকিস্তান সরকারের ভেতরে-বাইরে আলোচনা চলছে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার।সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, পিআইএ বছরের পর বছর ক্ষতির মুখে রয়েছে। মূলধন বাড়ানো, অপারেশনস সংস্কার—কোনোটিই সফল হয়নি।

আইএমএফ ঋণ পেতে পিআইএ বিক্রির পথে পাকিস্তান, কেনায় আগ্রহ সেনা ফাউজি ফাউন্ডেশনের

পাকিস্তানের চলমান ঋণ সংকট আরও প্রকট হওয়ায় আইএমএফ-এর ঋণ পেতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স বিক্রির পথে হাঁটতে পারে ইসলামাবাদ। সরকারি এই সংস্থাটি কেনার বিষয়ে চারটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেনা নিয়ন্ত্রিত ফৌজি ফাউন্ডেশন—ফলে পিআইএ কি সেনার অধীনে যাবে, উঠছে প্রশ্ন।

Leave a comment