২ বিলিয়ন ডলার ঋণ মেটাতে ব্যর্থ পাকিস্তান! সৌদি আরবকে যুদ্ধবিমান দিয়ে দেনা শোধের প্রস্তাব, চাঞ্চল্য বিশ্ব রাজনীতিতে

২ বিলিয়ন ডলার ঋণ মেটাতে ব্যর্থ পাকিস্তান! সৌদি আরবকে যুদ্ধবিমান দিয়ে দেনা শোধের প্রস্তাব, চাঞ্চল্য বিশ্ব রাজনীতিতে

ঋণের পাহাড়ে নুয়ে পড়া পাকিস্তান এবার নগদ টাকার বদলে যুদ্ধবিমান দিয়ে আন্তর্জাতিক দেনা মেটানোর পথে হাঁটতে চাইছে। সৌদি আরবের কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ইসলামাবাদ যে সামরিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিয়ে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

অর্থনৈতিক সঙ্কটে নতুন পথ খুঁজছে ইসলামাবাদ

বছরের পর বছর ধরে বৈদেশিক ঋণের চাপে জর্জরিত পাকিস্তান। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসা এবং আইএমএফ-এর বেলআউট প্রোগ্রামের আওতায় থাকার ফলে নগদ অর্থে ঋণ শোধ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ঋণকে সামরিক চুক্তিতে রূপান্তর করাকেই বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখছে পাকিস্তান সরকার।

জেএফ-১৭ থান্ডারই কি ‘দেনা শোধের অস্ত্র’?

রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান ও চিনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হালকা ওজনের যুদ্ধবিমান JF-17 Thunder সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ। সূত্রের অনুমান, পুরো চুক্তির মূল্য প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার—

২ বিলিয়ন ডলার সৌদি ঋণ পরিশোধে

বাকি অর্থ অস্ত্র, ইলেকট্রনিক সিস্টেম, খুচরো যন্ত্রাংশ ও পাইলট প্রশিক্ষণে

প্রতিরক্ষা জোটের পরই কেন এই আলোচনা?

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের উপর আক্রমণ মানেই অন্য দেশের উপর আক্রমণ। বিশ্লেষকদের মতে, সেই নিরাপত্তা জোটই এই যুদ্ধবিমান চুক্তির পথ প্রশস্ত করেছে।

সৌদি আরবের স্বার্থ কোথায়?

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে সৌদি আরব প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব পুনর্মূল্যায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে F-35 যুদ্ধবিমান পাওয়া নিয়ে ইজরায়েলের আপত্তি থাকায় বিকল্প হিসেবে তুলনামূলক সস্তা ও দ্রুত পাওয়া যায় এমন জেএফ-১৭ সৌদির কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

কম দামে যুদ্ধবিমান, বাড়ছে চাহিদা

পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের তুলনায় জেএফ-১৭-এর দাম কম এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। পাকিস্তানের দাবি, এই বিমান যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত—ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষেও ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে এর চাহিদা বাড়ছে।

অস্ত্র রফতানিতেই কি ঘুরে দাঁড়াতে চায় পাকিস্তান?

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখন সাহায্যনির্ভর দেশ থেকে অস্ত্র রফতানিকারকে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই লিবিয়া, বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইসলামাবাদের আশা, অস্ত্র রফতানি বাড়লে আইএমএফ-এর উপর নির্ভরতা কমবে।

সৌদি সহায়তায় ভর করেই এতদিন টিকে

২০১৮ সালে সৌদি আরব পাকিস্তানকে ৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ দিয়েছিল—যার মধ্যে ছিল তেল সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে নগদ আমানত। সেই সহায়তাই বারবার পাকিস্তানের বৈদেশিক রিজার্ভ সামলাতে সাহায্য করেছে।

গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে সৌদি আরবের কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ করতে না পেরে অভিনব পথ খুঁজছে পাকিস্তান। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, নগদের বদলে চিনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহ করে ঋণ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ।

Leave a comment