উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে পার্থেনিয়াম গাছের বিস্তার। রাস্তার ধার, ফসলের জমি থেকে শুরু করে স্কুল ক্যাম্পাস—সব জায়গাতেই এই আগাছার উপস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এটি কেটে ফেললেই শেষ নয়, গোড়া থেকে ধ্বংস করা জরুরি।
কী এই পার্থেনিয়াম গাছ?
পার্থেনিয়াম একটি একবর্ষজীবী আগাছা, যা বর্ষাকালে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ছোট সাদা ফুল থাকায় অনেকেই একে নিরীহ মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ক্ষতিকর উদ্ভিদ। এর পরাগরেণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে নানা ধরনের অ্যালার্জি ও রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
কী কী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থেনিয়াম গাছের সংস্পর্শে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে—
চর্মরোগ ও অ্যালার্জি
শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা
চোখ ও নাকের জ্বালা
দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা
গবাদি পশুর জন্যও ক্ষতিকর প্রভাব
কেন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই গাছ?
বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়া পার্থেনিয়ামের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। রাস্তার ধার, খালি জমি ও অনাবাদি জায়গায় এটি খুব দ্রুত জঙ্গল তৈরি করে ফেলে। অনেক সময় প্রশাসনিক অবহেলায় এর বিস্তার আরও বাড়ে।
কীভাবে ধ্বংস করবেন পার্থেনিয়াম?
গাছ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কেটে ফেললে এই আগাছা পুরোপুরি নষ্ট হয় না। আবার দ্রুত গজিয়ে ওঠে। তাই প্রয়োজন গোড়া থেকে নিধন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পদ্ধতি
গাছের গোড়া সম্পূর্ণ তুলে ফেলতে হবে
বিকল্পভাবে কেরোসিন স্প্রে ব্যবহার করা যায় (তবে পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে)
সবচেয়ে সহজ ও ঘরোয়া উপায়:
৪–৫ লিটার জলে ১ কেজি লবণ মিশিয়ে
গাছের পাতা ও গোড়ায় স্প্রে করলে ১–২ দিনের মধ্যে গাছ নষ্ট হতে পারে
পরিবেশগত সতর্কতা
কেরোসিন বা রাসায়নিক ব্যবহার করলে জলাশয় দূষিত হতে পারে। তাই সম্ভব হলে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে গাছ নিধনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্ষাকালে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া পার্থেনিয়াম গাছ শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাছ থেকে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট এমনকি দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগও হতে পারে। তাই সময় থাকতেই এর নিধন জরুরি।













