বিশ্বাসই কাল হল শেষ পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এক প্রৌঢ়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পরিচারিকার হাতেই ছিল বাড়ির লকারের চাবি ও ব্যাঙ্কের লেনদেনের ভার। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মেয়ের বিয়ের খরচ তুলতে ভয়ঙ্কর ছক কষে বসে পরিবার। হবু জামাইয়ের পরামর্শেই টাকা ও গয়না চুরি হয় বলে অভিযোগ।
দীর্ঘদিনের পরিচর্যা থেকেই ভরসার সম্পর্ক
পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি এলাকার ওই বাড়ির মালিক ২০১৪ সাল থেকে স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁর দেখভালের দায়িত্ব নেয় নমিতা ভট্টাচার্য নামে এক পরিচারিকা। ধীরে ধীরে পরিবারের ভরসার পাত্র হয়ে ওঠে সে। হাসপাতালের বিল মেটানো থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের লেনদেন—সব কিছুর দায়িত্বই ছিল তার উপর।
লকারের চাবি ও চেক—সবই পরিচারিকার হাতে
২০২৪ সালে ওই প্রৌঢ় হাসপাতালে ভর্তি হলে বাড়িতে প্রায়ই কেউ থাকত না। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন আর্থিক লেনদেনের দায়িত্বও নমিতার হাতে তুলে দেন। মালিক শুধু চেকে সই করে দিতেন। কত টাকা তোলা হচ্ছে, তা লিখে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে আনত পরিচারিকাই। এমনকী, আলমারির লকারের চাবিও ছিল তার কাছেই।
বিয়ের খরচ ঘিরেই ছক কষা
এই সময়েই নমিতার মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে রোহন বল নামে এক যুবকের। মেয়ের বিয়ে ঠিক হতেই খরচের চিন্তা শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেই খরচ জোগাড়ের উপায় বাতলে দেয় হবু জামাই রোহন। সে পরামর্শ দেয়, সুযোগ বুঝে বাড়ির মালিকের টাকা ও গয়না হাতিয়ে নিতে।
৬৫ গ্রাম সোনা ও ৩.৩০ লক্ষ টাকা উধাও
প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরামর্শে রাজি হয়ে যায় নমিতা। লকারের চাবি নিজের কাছে থাকায় সে আলমারি খুলে ৬৫ গ্রাম সোনার গয়না চুরি করে এবং তা হবু জামাইয়ের হাতে তুলে দেয়। পাশাপাশি, মালিকের সই করা চেক রোহনের হাতে দেয়। রোহন ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নেয় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
ব্যাঙ্কের মেসেজেই ফাঁস হয় রহস্য
কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর হঠাৎ করেই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার মেসেজ পান ওই প্রৌঢ়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে। বাড়ি ফিরে আলমারি খুলে দেখেন, সোনার গয়নাও উধাও। পরিচারিকাকে প্রশ্ন করতেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজেই ধরা পড়ে হবু জামাই
এরপরই পাটুলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বাড়ির মালিক। তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখে। তাতেই রোহন বলের পরিচয় সামনে আসে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পরিচারিকা নমিতা ভট্টাচার্যের খোঁজে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে হবু জামাইয়ের পরামর্শে অসুস্থ বাড়ির মালিকের টাকা ও সোনার গয়না চুরির অভিযোগ। দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি থানা এলাকায় এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে পরিচারিকার হবু জামাই। পুলিশ সূত্রে খবর, পরিকল্পিতভাবেই দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নিয়ে এই চুরি করা হয়।











