হুগলিতে নতুন পিকনিক স্বর্গ: রাঙামাটি–ভাদুর–পার আদ্রা জঙ্গলে মিলছে অনুমতি, কী কী নিয়ম মানতে হবে?

হুগলির রাঙামাটি, ভাদুর ও পার আদ্রা জঙ্গলে এ বছরও পিকনিকের অনুমতি মিলছে। কোন কোন নিয়ম মানতে হবে, কোথায় নিষেধাজ্ঞা—জেনে নিন সম্পূর্ণ বিস্তারিত।

পিকনিক মরশুমে ভ্রমণপ্রিয় মানুষের ভিড় যেমন বাড়ে, তেমনই বেড়ে যায় নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার চাপও। তাই এ বছর হুগলি জেলার তিনটি বনাঞ্চলে শর্তসাপেক্ষে পিকনিকের অনুমতি দিল বন দফতর। আরামবাগ ও গোঘাট মহকুমার ভাদুর ফরেস্ট, রাঙামাটি জঙ্গল এবং পার আদ্রা এলাকায় এবারও জঙ্গলের নিরিবিলি পরিবেশে বসতে পারে পিকনিকের আসর। তবে সংরক্ষিত চাঁদুর ফরেস্টে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

নতুন সম্ভাবনা: হুগলির তিন বনাঞ্চলে পিকনিকের ছাড়

শীতের ছুটিতে পিকনিকের পরিকল্পনা করা পরিবারের জন্য এ বছরের বড় সুখবর—আরামবাগ বন দফতর জানিয়ে দিয়েছে, ভাদুর, রাঙামাটি ও পার আদ্রা এই তিনটি বনাঞ্চলে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে পিকনিক করা যাবে। ভ্রমণপ্রিয় বাঙালিদের কাছে এই তিন বনাঞ্চল বহুদিন ধরেই আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র।

হুগলিতে নতুন পিকনিক স্বর্গ: রাঙামাটি–ভাদুর–পার আদ্রা জঙ্গলে মিলছে অনুমতি, কী কী নিয়ম মানতে হবে?
সংরক্ষিত চাঁদুর ফরেস্টে কড়া নিষেধাজ্ঞা

বন দফতরের রেঞ্জার আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, চাঁদুর ফরেস্ট সংরক্ষিত হওয়ায় সেখানে কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের প্রবেশ অনুমোদিত নয়। বন্যপ্রাণ ও বনভূমির ইকোসিস্টেম রক্ষাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ। প্রতি বছরই এইবিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে বন বিভাগ।

পিকনিকের আগে বাধ্যতামূলক লিখিত আবেদন

পিকনিক পার্টিকে অবশ্যই বন দফতরের কাছে আগে লিখিত আবেদন জমা করতে হবে। কতজন মানুষ অংশ নেবেন, ব্যবহৃত সামগ্রী, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি—সব তথ্য জানাতে হবে আগেভাগেই। বন দফতরের অনুমোদন পেলেই তবেই জঙ্গলে প্রবেশ করে পিকনিক বসানো যাবে।

হুগলিতে নতুন পিকনিক স্বর্গ: রাঙামাটি–ভাদুর–পার আদ্রা জঙ্গলে মিলছে অনুমতি, কী কী নিয়ম মানতে হবে?
পরিবেশ রক্ষায় কঠোর নির্দেশিকা: সাউন্ড বক্স–প্লাস্টিক নিষিদ্ধ

পর্যটকদের জন্য এ বারও কড়া নির্দেশিকা ঘোষণা করেছে আরামবাগ বন বিভাগ। সাউন্ড বক্স বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার করা চলবে না অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে কড়া বাধা বর্জ্য ফেলে যাওয়া যাবে না—পিকনিক শেষে সব আবর্জনা নিজেদের সঙ্গে তুলে নিয়ে যেতে হবেবন দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এই নিয়মগুলি মানা অত্যন্ত জরুরি।

বন্যপ্রাণ রক্ষায় তৎপর বন দফতর

বন দফতরের রেঞ্জার আশরাফুল ইসলাম বলেন, “জঙ্গল ও বন্যপ্রাণ রক্ষা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। পিকনিকের সময় কেউ যাতে নিয়ম লঙ্ঘন না করেন, তার জন্য বনকর্মীরা নিয়মিত নজরদারি করবেন।” আরামবাগ রেঞ্জ এলাকায় বনাঞ্চলের সুরক্ষাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

হুগলিতে নতুন পিকনিক স্বর্গ: রাঙামাটি–ভাদুর–পার আদ্রা জঙ্গলে মিলছে অনুমতি, কী কী নিয়ম মানতে হবে?
গড় মান্দারণে প্রতিবছরের মতো এবারও পিকনিকের ঢল

গোঘাটের গড় মান্দারণ পর্যটন কেন্দ্র প্রতিবছরই পিকনিক প্রেমীদের অন্যতম প্রিয় স্থান। রাঙামাটি ও ভাদুর ফরেস্টের নিরিবিলি রাঙামাটির পরিবেশ, নদীর ধারের শান্ত বাতাস আর চারপাশের লাল মাটির আবহ এ অঞ্চলকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। শুধু হুগলি নয়, আরামবাগ, বর্ধমান, এমনকি ভিন জেলার বহু মানুষও এখানে পিকনিক করতে আসেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে দায়িত্ববান আচরণের বার্তা

হুগলির বনাঞ্চলগুলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ মিললেও তা যেন পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়—এটাই লক্ষ্য বন দফতরের। তাই পর্যটকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, পিকনিক করতে আসুন, আনন্দ করুন, কিন্তু প্রকৃতি নষ্ট করবেন না।

হুগলিতে নতুন পিকনিক স্বর্গ: রাঙামাটি–ভাদুর–পার আদ্রা জঙ্গলে মিলছে অনুমতি, কী কী নিয়ম মানতে হবে?

হুগলি জেলার তিনটি বনাঞ্চল—ভাদুর ফরেস্ট, রাঙামাটি আর পার আদ্রা—এ বছরও পিকনিকের অনুমতি দিল বন দফতর। তবে সংরক্ষিত চাঁদুর ফরেস্টে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকছে। নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে পর্যটকদের লিখিত আবেদনসহ বেশ কিছু কঠোর শর্ত মানতে হবে। প্লাস্টিক ব্যবহার ও সাউন্ড বক্স বাজানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

Leave a comment