মোদি-লাক্সন বৈঠকে ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

নিফার লাক্সনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাপ্লাই চেইন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিউজিল্যান্ড সফরের দ্বিতীয় দিনে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন উপস্থিত ছিলেন। পরে দুই নেতা প্রতিনিধিদল-স্তরের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক অংশীদারিত্বসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট–এফটিএ) শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, অংশীদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতারও প্রতীক। তিনি বলেন, এই সফর ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সম্পর্ককে নতুন গতি দেওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রায় ৪০ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার একটি নতুন সূচনার ইঙ্গিত।

প্রধানমন্ত্রী মোদি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ড সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনসহ সংশ্লিষ্ট দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি "ঐতিহাসিক মাইলফলক" বলে উল্লেখ করেন।

মোদি-লাক্সন বৈঠকে ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) আরও শক্তিশালী করা, উদ্ভাবন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।

ভারত ও নিউজিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাজারে আরও উন্নত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৫৭ শতাংশ রপ্তানি শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

অন্যদিকে, ভারত থেকে নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের ওপরও শুল্ক প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে। তবে ভারত কৃষি ও দুগ্ধ খাতের স্বার্থ বিবেচনায় দুগ্ধজাত পণ্য, চিনি, আপেল এবং কয়েকটি অন্যান্য সংবেদনশীল কৃষিপণ্যকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রেখেছে। এর উদ্দেশ্য দেশের কৃষক ও কৃষিখাতের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানিয়ে ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম এবং দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব দুই দেশের নাগরিকদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ, সমৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ক্রিস্টোফার লাক্সন আরও বলেন, দুই দেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা এবং মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

Leave a comment