নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে বিকশিত ভারত ২০৪৭ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

নয়াদিল্লিতে নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে বিকশিত ভারত ২০৪৭, অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভাবনা ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন”। কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন মডেল নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উপ-রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নীতি আয়োগের উপ-সভাপতি, সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে “অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন কাঠামো”।

এই কাঠামোর চারটি প্রধান স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, মৌলিক মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা বিকাশ। দ্বিতীয়ত, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নতি। চতুর্থত, সকলের জন্য সমতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে বিকশিত ভারত ২০৪৭ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

সরকারের লক্ষ্য, এই চারটি ক্ষেত্রে সুষম অগ্রগতির মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা।

বৈঠকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই)-এর সম্প্রসারণ এবং এর আরও কার্যকর ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নীতি আয়োগ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেবে, যাতে উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলি তৃণমূল স্তরে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত করা যায়।

আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। এতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের অগ্রগতির নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তব প্রভাব বাস্তবসময়ে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে ২০২৫ সালের ২৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রধান সচিব সম্মেলনের সুপারিশগুলিও পর্যালোচনা করা হবে।

 

Leave a comment