পাটনার একটি হোস্টেলে পুলিশের অভিযানে ৪০টি সুতলি বোমা উদ্ধার, ৭ ছাত্র গ্রেপ্তার

পাটনা শহরের একটি হোস্টেলে পুলিশের অভিযানে ৪০টি সুতলি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৭ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ছাত্রদের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্বের সঙ্গে যুক্ত এবং রাজধানীতে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

পাটনা শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নাড়িয়ে দেওয়া একটি গুরুতর ঘটনায় রাজধানীর একটি হোস্টেলে পুলিশের অভিযানে ৪০টি সুতলি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে ৭ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ছাত্রদের মধ্যে চলমান আধিপত্যের দ্বন্দ্বের সঙ্গে যুক্ত এবং অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীতে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

পুলিশ সূত্র জানায়, হোস্টেল চত্বরে কয়েকজন ছাত্রের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড এবং একটি বড় ঘটনার প্রস্তুতির বিষয়ে তারা গোপন তথ্য পায়। তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ দল গঠন করে গভীর রাতে হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় একটি কক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক সুতলি বোমা উদ্ধার করা হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। বোমার সংখ্যা ও গঠন দেখে পুলিশ কর্মকর্তারা বিস্মিত হন।

তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্ররা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে হোস্টেল ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এই আধিপত্যের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, নিজেদের প্রভাব প্রদর্শন এবং রাজধানীতে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে সুতলি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুলিশের মতে, সময়মতো অভিযান না হলে বড় ও গুরুতর কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে পারত, যার ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ খতিয়ে দেখছে এত বিপুল সংখ্যক সুতলি বোমা কোথা থেকে আনা হয়েছে। বোমা তৈরিতে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্রের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে শহরের বাইরে বা কোনো অপরাধী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

ঘটনার পর হোস্টেল প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হোস্টেলের ভেতরে এত বড় পরিমাণ বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। পুলিশ হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও জানতে চাইছে, কেন ছাত্রদের কর্মকাণ্ডের ওপর সময়মতো নজরদারি করা হয়নি।

ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অন্যান্য হোস্টেল ও সংবেদনশীল স্থানে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর শান্তি-শৃঙ্খলা ব্যাহত করার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না এবং এই ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a comment