হিন্দু শাস্ত্র মতে অমাবস্যা তিথি শুধু অন্ধকারের প্রতীক নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ লাভের বিশেষ সময়। পৌষ মাসের অমাবস্যা তার মধ্যে আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই তিথি সূর্যদেব ও পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে নিবেদিত। বছরের শেষ অমাবস্যা শুক্রবার পড়ায় এর শুভ ফল আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মত জ্যোতিষীদের।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পৌষ অমাবস্যা?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, পৌষ অমাবস্যাকে পিতৃতিথি বলা হয়। এই দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে প্রদীপ ও দান করলে তাঁদের আশীর্বাদে জীবনের বহু বাধা দূর হয়। পণ্ডিতদের মতে, এই তিথিতে করা উপায়ের ফল খুব দ্রুত প্রকাশ পায়।
দক্ষিণ কোণে প্রদীপ জ্বালান
অমাবস্যার সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর বাড়ির দক্ষিণ কোণে একটি সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বালান। বিশ্বাস করা হয়, এই কোণ পূর্বপুরুষদের সঙ্গে যুক্ত। এখানে প্রদীপ জ্বালালে পিতৃদোষ কমে এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
অশ্বত্থ গাছে বিশেষ প্রতিকার
রাতে অশ্বত্থ গাছের নীচে চারমুখী সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে তাতে কয়েকটি কালো তিল দিন। শাস্ত্র মতে, অশ্বত্থ গাছ ত্রিদেব ও পূর্বপুরুষদের বাসস্থান। এই উপায় শনি দোষের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং নেতিবাচক শক্তি দূর করে।
৫ কড়ি ও ঘিয়ের প্রদীপে অর্থযোগ
পৌষ অমাবস্যার রাতে বাড়ির প্রধান দরজার কাছে দুটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। এরপর একটি লাল কাপড়ে পাঁচটি কড়ি ও সামান্য জাফরান বেঁধে দেবী লক্ষ্মীর সামনে রাখুন। পরদিন এটি তুলে নিজের আলমারি বা টাকা রাখার স্থানে রেখে দিন। বিশ্বাস করা হয়, এতে অর্থাভাব দূর হয় এবং নতুন বছরে অর্থপ্রাপ্তির পথ খুলে যায়।
বছরের শেষ পৌষ অমাবস্যা পড়ছে শুক্রবার, যা জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই বিশেষ তিথিতে কিছু সহজ আচার পালন করলে আর্থিক টানাপোড়েন কাটে, সংসারে আসে সমৃদ্ধি ও শুভ শক্তির প্রবাহ। জেনে নিন সেই কার্যকর জ্যোতিষ টোটকা।













