অসমে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও লোকসভা সাংসদ প্রদ্যুত বোরদোলই বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিসপুর আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর রাজ্যের রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অসমের রাজনীতিতে এই পরিবর্তন ঘটে যখন প্রদ্যুত বোরদোলই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে দিসপুর আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাকে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজেপির এই দ্রুত সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় যে দল নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে নতুন মুখকে সামনে আনার চেষ্টা করছে।
অতুল বোরার টিকিট বাতিল হওয়ায় বিতর্ক
প্রদ্যুত বোরদোলইকে প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপির বর্তমান বিধায়ক অতুল বোরার টিকিট বাতিল করা হয়েছে, যা দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
অতুল বোরার দীর্ঘদিন ধরে দিসপুর আসনে প্রতিনিধিত্ব ছিল এবং এলাকায় তার শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে তার টিকিট বাতিল হওয়ায় দলের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
![]()
বোরদোলইয়ের কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগদান
প্রদ্যুত বোরদোলই দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুইবার লোকসভা সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মার্গেরিটা বিধানসভা আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং পরে নগাঁও লোকসভা আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান। ২০২৪ সালেও তিনি একই আসন থেকে জয়ী হন।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কঠিন বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে কংগ্রেসে তিনি উপেক্ষা ও অস্বস্তি অনুভব করছিলেন, যার কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে যে তার পুত্র প্রতীক বোরদোলই মার্গেরিটা আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অতুল বোরার প্রতিক্রিয়া
টিকিট বাতিল হওয়ার পর অতুল বোরার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসে। তিনি জানান যে তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে দিসপুর আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং তার রাজনৈতিক জীবনে বহু নেতাকে পরাজিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন যে তিনি আশা করেছিলেন দল তার অভিজ্ঞতা ও অবদান বিবেচনা করবে, কিন্তু তা হয়নি। অতুল বোরার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে দলের পরিবেশ আগের মতো নেই এবং কর্মীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
বিজেপির সিদ্ধান্তের তাৎপর্য
এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রার্থী পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে বিজেপি একদিকে অভিজ্ঞ নেতাকে দলে নিয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে পুরনো নেতার টিকিট বাতিল হওয়ায় দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।












